ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি : সংগৃহীত
0

বাণিজ্য যুদ্ধ হোক বা সামরিক সংঘাত; মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিটি কথাই যেন বিশ্ববাজারে আলোড়ন তুলে। আর তাই তার প্রতিটি বক্তব্য যেন মূল্যবান ব্যবসায়ীদের জন্য। আর সেটাকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল এ দেয়া প্রতিটি পোস্টের বিপরীতে মূল্য ধার্য করতে চাইছে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ। কিন্তু এ উদ্যোগের আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ট্রাম্প বিরোধীরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে কোন পোস্ট বা বক্তব্যের দিকে মুখিয়ে থাকে ব্যবসায়ীরা। কেননা বাণিজ্য যুদ্ধ থেকে শুরু করে সামরিক যুদ্ধ পর্যন্ত ট্রাম্পের বক্তব্য বদলে দেয় বাজারের গতিপথ। এবার তা কাজে লাগাতে উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্পের কোম্পানি ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ-টিএমটিজি। চালু করেছে ‘ট্রুথ এপিআই’ নামের একটি পেইড ডেটা ফিড সার্ভিস। অর্থাৎ নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে ওয়ালস্ট্রিটের বিভিন্ন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ট্রুথ সোশ্যালের সবচেয়ে প্রভাবশালী অ্যাকাউন্টগুলোতে দ্রুত ঢুকতে পারবে। অবশ্য এ পরিষেবায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টও আছে কি না সে বিষয়ে কিছুই বলে নি টিএমটিজি।

আরও পড়ুন:

মূলত ট্রুথ এপিআই হলো একটি নতুন ডেটা ফিড যা সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্কিংয়ের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টগুলো থেকে মিলিসেকেন্ডের মধ্যে পোস্টের রিয়েল-টাইম অ্যাক্সেস দেয়। পরিষেবাটি সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা ধরে চলবে। ফিনান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত প্রবেশাধিকারে গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত চার্জ করা হতে পারে। তবে বলা অপেক্ষা রাখে না, টিএমটিজির এই উদ্যোগ হচ্ছে ডিজিটাল যুগে প্রেসিডেন্টের প্রভাবকে অর্থে রূপ দেয়ার একটি কৌশল। কেননা গেলো বছরের এপ্রিল, ট্রাম্প যখন ট্রুথ সোশ্যালে শুল্ক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল ঠিক তখনই ওয়াল স্ট্রিটের সূচক বেড়ে গিয়েছিল।

অবশ্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, যে কোম্পানির সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার প্রেসিডেন্টের পরিবার, সেই কোম্পানি কি তার নিজের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে লাভবান হতে পারে? তাই বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি-কে চিঠি দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এবং অ্যাডাম শিফ। অন্যদিকে টিএমটিজির মুখপাত্র বলেছেন, মুক্তবাজারের প্রতি আদর্শগত বিরোধিতা বা বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা ট্রুথ এপিআইকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

এদিকে চিঠি পাওয়ার বিষয়ে এসইসি স্বীকার করলেও তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছুই বলেনি তারা। তবে ট্রুথ এপিআই-এর মাধ্যমে ট্রাম্প কি নিজের কথাই বিক্রি করছেন, নাকি এটি বাজারের জন্য এক নতুন দিগন্ত—সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।


এফএস