উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের সার্বভৌম ছিটমহল সেউতা। কাটাতারের বেড়া পার হয়ে মরক্কো থেকে এই ছিটমহল হয়ে স্পেনে ঢুকে পড়েছেন হাজার হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী। ২০২১ সালের সবশেষ এমন দৃশ্য দেখেছিল বিশ্ববাসী, সেবার প্রায় ১০ হাজার তরুণ সীমান্ত পাড় হয়ে চলে আসেন স্পেনের সেউতা অঞ্চলে।
এখন প্রশ্ন ওঠে ঠিক কী কারণে এক দু’দিনের ব্যবধানে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে সাগর পাড়ি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসেছেন সেউতায়।
এই গণঅনুপ্রবেশের পেছনে মানব পাচারকারী মাফিয়া চক্রের গুজব ছড়ানোকে দায়ী করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের সরাসরি ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত একটি রায় দেন।
পাচারকারী চক্র এই রায়ের ভুল ব্যাখ্যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে সীমান্তে টেনে এনেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়া গুজবটি ছিল, সমুদ্র পথে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না- রায়ে এমন নির্দেশ দিয়েছে স্পেনের সর্বোচ্চ আদালত।
আরও পড়ুন:
এছাড়া আছে অর্থনৈতিক সংকটের চিত্র। মরক্কোয় তরুণ ও নারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার অনেক বেশি। কাজের অভাব ও দারিদ্র্য তাদের ইউরোপে ভাগ্য অন্বেষণে বাধ্য করছে বহু বছর ধরে।
এখানে যোগ হয়েছে ভৌগলিক সুবিধার বিষয়টিও। সেউতা ও মেলিলা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আফ্রিকার একমাত্র স্থল সীমান্ত হওয়ায় মরক্কো থেকে খুব সহজেই সেখানে পৌঁছানো সম্ভব। বছরের অন্যান্য সময়েও এই সেউতায় অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঘটে, কিন্তু এমন ব্যাপক হারে নয়।
এদিকে অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক মহল। সীমান্ত লঙ্ঘনের এই দৃশ্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন ইইউ কমিশনার। আর, প্রয়োজনে স্পেনের সঙ্গে শেনগেন মুক্ত-সীমান্ত চুক্তি স্থগিত করার হুমকি দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।





