কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে চলতি বছর দেশে ফিরেছেন ৪ শতাধিক বাংলাদেশি যুবক। এখন টেলিভিশন সন্ধান পায় এমন একজন ভুক্তভোগীর যাকে দেশটির সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্র জিম্মি করে অনলাইন অপরাধে জড়াতে বাধ্য করে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দেখা করতে রাজি হন এই যুবক। সেখানে জানান তার ভয়ানক সব অভিজ্ঞতা।
ভুক্তভোগী এক যুবক জানান, তাকে কোডিংয়ের কথা বলে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।
কম্পিউটার অপারেটর পেশায় কাজ দেয়ার কথা ছিলো। অথচ তাকে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করা হয় ৪ হাজার মার্কিন ডলারে। শারীরিক নির্যাতন করে বাধ্য করা হয় স্ক্যামিংয়ে। নাম দেয়া হয়- ইভিল। চারটি টার্গেট দিয়ে নামানো হয় মিশনে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ জানায়, কম্বোডিয়া থেকে ফিরে আসা ৪ শতাধিক ব্যক্তির জবানবন্দি নিয়েছে সিআইডি। মামলা হয়েছে ৮টি। এ ছাড়াও চলতি বছর সিআইডিতে মানব পাচারের মামলা হয়েছে ৫২৮টি।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত তদন্তাধীন ও বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫ হাজার ৯৫টি। ২০২৫ সালে মানব পাচারের নতুন মামলা হয় ১ হাজার ১২৬টি ও চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ২৪৭টি। একই সময়ে যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে ৬ জনের এবং অন্যান্য সাজা পেয়েছেন ২৬ জন আসামি।
যুক্তরাষ্ট্রের টিআইপি প্রতিবেদনে গত ছয় বছর ধরে বাংলাদেশ টায়ার টু-তে অবস্থান করছে। আলাদা কোনো উইং না থাকায় বাংলাদেশ মানবপাচার প্রতিরোধে খুবই নাজুক অবস্থানে।
ফিল্মস ফর পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, তাহলে এটার দেখার দায়িত্ব হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একদম ডেডিকেটেড কোনো উইংস নাই, সে কারণে বাংলাদেশ কিন্তু গ্লোবালি হিউম্যান ট্রাফিকিংয়ের জায়গায় খুবই নাজুক অবস্থায় আছে।
স্ক্যামের জন্য আগে অবৈধ পন্থা টার্গেট করা হলেও এখন বৈধ উপায়ে ভিসা নিয়ে, বিএমইটি কার্ড করে কর্মীদের বিদেশে নিয়ে চলছে প্রতারণা। ফিরে আসা প্রশিক্ষিত বা ব্যর্থ ব্যক্তিরা দেশেও স্ক্যাম সেন্টার গড়ে তুলতে পারে- এমন আশঙ্কা অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক জালাল উদ্দিন শিকদার বলেন, তারা যদি কোনো অর্থের অনর্থ অনেক ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তাহলে কিন্তু তারা কিন্তু ক্ষতিপূরণ মানে ক্ষতিটা আদায় করার জন্য তারা নিজেরাও কিন্তু কনভার্ট হতে পারে। তারা এই টেকনিকটাকে শিখে যে এখানে যে অ্যাপ্লাই করছে না, তারই বা নিশ্চয়তা তো আপনারা দিতে পারেন না, তাই না?
ফিরে আসা ভুক্তভোগীরা দেশে স্ক্যামের চেষ্টা করলে তাও অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করবে সিআইডি।
অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ (সংশোধিত ২০২৬)—এখানে কিন্তু স্ক্যাম সেন্টারের কথা উল্লেখ করা আছে। যদি কেউ এটা চালাইতে এখানে চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে সে অবশ্যই আপনার আইনের আওতায় আসবে।
বিদেশে স্ক্যামে সেন্টারে কর্মরত ব্যক্তিরা দেশে ফেরার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে বলে জানালেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। সরকারও এই বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কম্বোডিয়া থেকে যারা এই ধরনের আসবে, তাদের অন্ততপক্ষে সবকিছু যেন আমাদের নজরদারির মধ্যে রাখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত কঠোরভাবে এদের নজরদারির মধ্যে রাখবেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য বলছে, চিহ্নিত অনলাইন স্ক্যাম কম্পাউন্ডের ৭০ শতাংশের বেশি কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও লাওসে। যাদের সহায়তা করছে চীনের আরেকটি চক্র।





