পঞ্চগড়ের ষাটোর্ধ নারী জোবেদা বেগমের বয়স্ক ভাতা সহজ করেছে মোবাইল ব্যাংকিং। তার মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনযাপন ধীরে ধীরে সহজ হচ্ছে ডিজিটাল লেনদেনে।
জোবেদা বেগম বলেন, ‘আমি ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে যাই। লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকতে হতো। সুবিধা হয় যে মোবাইলে টাকা পাইলে।’
ডিজিটাল লেনদেনে গ্রামের তুলনায় গ্রাহক বেশি শহরে। নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই লেনদেন করেন কার্ড কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে।
মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করা একজন গ্রাহক বলেন, ‘কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করলে আমাদের চুরিসহ বিভিন্ন রকম ঝুঁকিও কমে যায়।’
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, শহর ও গ্রাম মিলে বর্তমানে অনলাইন ব্যাংক ও উপ-শাখার সংখ্যা সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি।
দেশে গেল ৫ বছরে কার্ডে লেনদেন বেড়েছে। ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যাও ৫ কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণ, মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ে নগদবিহীন লেনদেনে আগ্রহ বাড়ছে। তরুণ গ্রাহকরা আগ্রহী হচ্ছেন ভার্চুয়াল কার্ডে। তবে অর্থনীতি গবেষকরা বলছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নে শহর ও গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের বৈষম্য দৃশ্যমান।
আরও পড়ুন:
ডিনেট চেয়ারপার্সন ড. শাহ মো. আহসান হাবিব বলেন, ‘আমি মনে করি অবকাঠামোগত গ্যাপটাই একটা বড় বাধা। আরেকটা বাধা আছে, সেটা হলো গ্রাম এবং শহরের মানুষের মধ্যে অ্যাওয়ারনেস, ফিনান্সিয়াল যেটা লিটারেসি বলে, ডিজিটাল লিটারেসি বলে। এখানে একটা বড় গ্যাপ আছে।’
নগদ টাকার বাণিজ্য চালু থাকায় সরকার চাইলেও ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এই ব্যাংক কর্মকর্তা।
ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘এ বাণিজ্যের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের কিন্তু হিউজ পরিমাণে কাস্টমার অনবোর্ডিং করেছে। আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বা আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। যে সমস্ত ইনিশিয়েটিভগুলো নেয়া হয়েছে, সেগুলোর ভেতরে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।’
নগদবিহীন লেনদেনে ব্যাংকগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে থাকা ব্যাংক এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্ট পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘ক্যাশলেস বা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে গ্রাহকদের সুরক্ষা দেয়া। কিছু ব্যাংক আছে আমাদের, যেগুলো টেকনোলজিক্যালি অনেক বেশি অ্যাডভান্সড। তারা এই ক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারাই আসলে লিডিং পজিশনে নিয়ে গিয়ে, যখন তারা একটা পর্যায়ে পৌঁছাবে, পুরো ব্যাংকিং সেক্টর একসঙ্গে কাজ করতে পারবে।’
এখনও বেশিরভাগ মানুষের ভরসা নগদ লেনদেন। তাই ক্যাশলেস অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের জোরালো ভূমিকার পরামর্শ এ অর্থনীতিবিদের।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘এগুলোর মধ্যে সেন্ট্রাল ব্যাংক বা অন্য কেউ দুই-একটা পিসমিল স্টেপ নিলে হবে না। তার জন্য একটা দীর্ঘমেয়াদী একটা পরিকল্পনা করতে হবে।’
গ্রাহকের অর্থ ও তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে ক্যাশলেস অর্থনীতির সুফল আসবে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল লেনদেনে আরও উৎসাহ বাড়াতে হবে সাধারণ মানুষের।




