দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুকুরেয়া ইচ্ছাকৃতভাবেই ম্যাচের সময় চুল বাঁধেন না। কারণ, তার অটিজম আক্রান্ত বড় ছেলে মাতেও যেন গ্যালারিতে কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় অসংখ্য খেলোয়াড়ের ভিড়েও সহজেই বাবাকে চিনে নিতে পারে।
বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা কুকুরেয়া। মাঠে তার পারফরম্যান্স যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি মাঠের বাইরের এই মানবিক গল্পও দৃষ্টি কেড়েছে অনেকের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কুকুরেয়া ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ক্লডিয়া রদ্রিগেজ প্রথম বুঝতে পারেন, তাদের বড় ছেলে মাতেও অন্য শিশুদের তুলনায় কিছুটা ভিন্নভাবে বেড়ে উঠছে। পরে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, সে অটিজম স্পেকট্রামে রয়েছে।
অ্যামাজন প্রাইমের একটি তথ্যচিত্রে ক্লডিয়া সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, প্রথম দিকের দিনগুলো ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। বলছিলেন, ‘স্কুলে দিয়ে ফেরার পথে আমরা প্রায় প্রতিদিন গাড়িতে বসে কাঁদতাম। নতুন জায়গা, নতুন রুটিন কিংবা সামান্য পরিবর্তনও মাতেওর জন্য খুব কঠিন ছিল।’
আরও পড়ুন:
কুকুরেয়াও স্বীকার করেছেন, সন্তানের অটিজমের বিষয়টি মেনে নেয়া সহজ ছিলো না। বলেন, ‘কেউ বাবা-মা হওয়ার আগে সন্তানের অটিজমের জন্য প্রস্তুত থাকে না। আমাদেরও প্রতিদিন নতুন করে শিখতে হয়েছে।’
ক্লডিয়া জানান, এখন তাদের পরিবারের প্রায় সব সিদ্ধান্তই মাতেওকে ঘিরে নেয়া হয়। ‘আমরা কোথাও যেতে চাইলেও অনেক সময় যাই না, কারণ জানি এতে মাতেওর কষ্ট হবে। ছুটির দিনগুলোও আমাদের জন্য সহজ নয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব লন্ডনের বাসায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করি। সেখানে সে সবচেয়ে স্বস্তিতে থাকে।’
২০১৮ সালে পরিচয়ের পর কুকুরেয়া ও ক্লডিয়ার সংসারে এসেছে তিন সন্তান মাতেও, রিও ও বেলা। ব্রাইটন থেকে চেলসি হয়ে স্পেন জাতীয় দলে নিজের অবস্থান শক্ত করার পুরো পথচলায় পরিবারের সমর্থন তার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ছিলো।
আজ কুকুরেয়ার কোঁকড়ানো লম্বা চুল বিশ্ব ফুটবলে তার পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে সেই চুলের পেছনে নেই কোনো ফ্যাশনের গল্প; আছে একজন বাবার নীরব অঙ্গীকার, যাতে তার ছেলে সব সময় ভিড়ের মধ্যেও বাবাকে চিনে নিতে পারে।





