সোশ্যাল মিডিয়ায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিরোধ, বাড়ছে জনসমর্থন

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিরোধ
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিরোধ | ছবি : সংগৃহীত
0

গেলো ১২ বছর ধরেই রাজনৈতিক ন্যারেটিভ নির্মাণে বিজেপি শিবিরের অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র সামাজিক মাধ্যম। এবার সেই সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করেই মোদি সরকারের গদি কেড়ে নেয়ার আন্দোলন শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ গড়ার ভিডিও, ছবি, পোস্ট- ভাইরাল হচ্ছে চোখের নিমিষে। বাড়ছে জনসমর্থন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও পৌঁছে যাচ্ছে আন্দোলনের বার্তা।

মুম্বাইয়ের দাদারে শিবাজী পার্ক। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে প্রতিবাদ চলাকালীন পুলিশের প্রিজন ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন এক নারী। তাকে এভাবে অবিচল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বাকিরাও সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থী না হয়েও ঐ নারীর এই প্রতিবাদের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।

আবার, পুলিশ ভ্যানের দরজা খুলে ভেতরে থাকা আটক আন্দোলনকারীদের মুক্ত করার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থী বা প্রতিবাদে সামিল সাধারণ জনতা-কাজটি যেই করুক না কেন, এই সাহসিকতার প্রশংসায় ভাসছে সামাজিক মাধ্যম। অনেকেই বলছেন, এই ভিডিও ইঙ্গিত করে কতোটা সামর্থ্য নিয়েই রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলনকে রুখে দিতে পুলিশ আইনের অপব্যবহার করছে এমন অনেক পোস্ট আছে সামাজিক মাধ্যমে। এবার এরও প্রমাণ মিলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, আটক হওয়া শিক্ষার্থীরা আবার বিক্ষোভে অংশ নিলে মাদক মামলা দিয়ে তাদের জীবন নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন মুম্বাই পুলিশের এক সদস্য। আটক ছাত্রদেরই একজন সেই ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। পরে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে মুম্বাই পুলিশ।

আরও পড়ুন:

আবার ছাত্র অবস্থায় নিজেই শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে সামিল হয়েছেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। অথচ এবার তারই পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত। এমন চাঞ্চল্যকর ইতিহাসও বের হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। এমনকি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কটাক্ষে ইন্সটাগ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কন্যা নৈমিষা।

আবার আন্দোলনকারীদের জন্য ফুড ডেভিভারি সার্ভিসের মাধ্যমে খাবার পাঠাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বসবাসতর ভারতীয়রা। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। খাবার ঠিক জায়গায় পৌঁছেছে কী না সেটাও ভিডিও করে প্রবাসীদের অশ্বত্ব করছেন কর্মীরা।

এই সবকিছুই আসলে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ঘটনা। জনপ্রিয়তা আর ভিউ- হিসেব করলে জনসমর্থন আদায়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে এইসব ভিডিও। আল জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ১২ বছর ধরে নিজেদের জনপ্রিয়তার ক্যাম্পেইন চালিয়েছে বিজেপি। এবার সেই অস্ত্রেই কুপোকাত হচ্ছে তারা। প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ছে সিজেপির সমর্থন।

তাই যন্তর মন্তরের আশেপাশে ইন্টারনেট জ্যামার ব্যবহার করে আন্দোলনের সংগঠকদের বিপাকে ফেলতে চাইলেও, আদৌতে এই ইন্টারনেটই রাতের ঘুম কাড়ছে মোদি প্রশাসনের।

এফএস