রাজশাহীতে পরিত্যক্ত সরকারি কোয়ার্টার; নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ

রাজশাহীতে পরিত্যক্ত সরকারি কোয়ার্টার
রাজশাহীতে পরিত্যক্ত সরকারি কোয়ার্টার | ছবি: এখন টিভি
2

রাজশাহী শহরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বহু কোয়ার্টার ও কলোনির বহুতল ভবন বছরের পর বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও দেয়ালে ফাটল, কোথাও খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। জানালা-দরজা ভাঙা, চারপাশে আগাছা। সরকারি বাসা হলেও বেশি ভাড়া বা অন্যান্য সুবিধার অভাবে থাকছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ অযত্নে নষ্ট হচ্ছে। এসব ভবন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

গাছগাছালিতে আচ্ছন্ন, মনে হবে হরর কোন মুভিতে দেখা পরিত্যক্ত ভবন। কিন্তু এগুলো মূলত, একসময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে ভবনের অনেকগুলো এখন পরিত্যক্ত। কোথাও দেয়ালে ফাটল, কোথাও খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। জানালা-দরজা ভাঙা, চারপাশে আগাছার দখল।

নগরের অপর প্রান্ত টিবি-পুকুর এখানে, ভবন ফাঁকা নেই। ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা ভবনের কিছু অংশে এখনও বসবাস করছেন অনেক পরিবার। জীবনের ঝুঁকি জেনেও বিকল্প আবাসনের অভাবে আর খরচ কমাতে সেখানেই বসবাস করছেন তারা। কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই থাকতে হচ্ছে।

আবার তুলনামূলক ভালো অবস্থার কিছু সরকারি ভবন দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। এসব সরকারি বাসার ভাড়া তুলনামূলক বেশি, অবস্থানগত অসুবিধার কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে উঠতে আগ্রহ দেখান না। সে কারণেও পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে সরকারি এসব সম্পদ।

যেসব ভবন সংস্কারের উপযোগী সেগুলো মেরামত করা হবে। আর যেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী, সেগুলো অপসারণ করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান গণপূর্ত বিভাগের এ কর্মকর্তা।

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-১ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘হেলেনাবাদ এবং মহিষবাথান দুইটা কলোনির জন্য অলরেডি আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। রাজশাহীতে যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে তারা যেন ওখানে বসবাস করতে পারে, তারা যেন এ সুযোগ-সুবিধাটা পায়। আমরা প্রজেক্ট হাতে নেয়ার জন্য যা যা করণীয় তা আমাদের তরফ থেকে আমরা এগিয়ে রেখেছি। এখন আমরা যদি গ্রিন সিগন্যাল পাই, বা পরবর্তী ধাপে আমরা যাব আরকি।’

নগর পরিকল্পনাবীদরা বলছেন, সরকারি ভবনগুলোয় সময়ের সঙ্গে সেবার মান ও মূল্যের সমঝোতা বজায় রাখলে বাড়বে সরকারি এ আবাসিক কলোনি ব্যবহার। সেই সঙ্গে সরকারি কোষাগারে যুক্ত হবে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

জেআর