শিরোপা জেতা হয়নি সত্যি, কিন্তু তারা জিতে নিয়েছে কোটি মানুষের হৃদয়। আমেরিকার মাটিতে ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ের ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় হার কোয়ার্টার ফাইনালেই থামিয়ে দিয়েছিল নরওয়ের স্বপ্নযাত্রা। কিন্তু তাতে কী? ট্রফি না আসুক, বীরের সম্মান দিতে ভুল করেনি নরওয়েজিয়ানরা। প্রায় লাখ খানেক ভক্তের উপস্থিতিতে ওসলোর রাজপ্রাসাদ প্রাঙ্গণ রূপ নেয় এক ফুটবল স্টেডিয়ামে।
এ উদযাপনে শামিল স্বয়ং রাজপরিবারও! ক্রাউন প্রিন্স হ্যাকন নিজেই যখন ড্রামের কাঠি হাতে তুলে নিলেন, তখন শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ-সবাই যেন এক সুরে মেতে উঠলেন একই আবেগে। যদিও এ শেষ মুহূর্তের উদযাপনে দলের প্রাণভোমরা আর্লিং হাল্যান্ডের দ্রুত প্রস্থান কিছুটা শূন্যতা তৈরি করেছিল ভক্তদের মাঝে।
নরওয়ের একজন সমর্থক বলেন, ‘নরওয়ে দল এবার যা করেছে, তা আমাদের কল্পনারও অতীত। আমার মনে হয় আজ পুরো নরওয়ের মানুষের এখানে আসা উচিত ছিলো। এ দলটাকে সম্মান জানাতে, কারণ পুরো কাপ জুড়ে তারা সত্যিই অসাধারণ খেলেছে।’
এরপর রাজকীয় গার্ডদের পেছনে রেখে, ছাদখোলা বাসে চড়ে ওসলোর রাজপথে নামেন কোচ স্টলে সোলবাকেন ও তার শিষ্যরা। বাসের ওপর থেকেও চলে একের পর এক ‘ভাইকিং রো’। ভক্তদের ভালোবাসার জবাবে হাত নেড়ে, এবং সেলফি তুলে কৃতজ্ঞতা জানান ফুটবলাররা।
নরওয়ের একজন সমর্থক বলেন, ‘সবাইকে এভাবে একসঙ্গে আনন্দ করতে দেখাটা দারুণ। আমরা হেরে গেছি বলে যদি ঘরে বসে থাকতাম, তবে সেটা দেশের জন্য দুঃখজনক হতো। সবাই এসে উপভোগ করছে, এটাই বড় কথা।’
জয়-পরাজয় ছাপিয়ে ফুটবল যে একটি জাতিকে কতটা এক সুতোয় বাঁধতে পারে, ওসলোর রাজপথ আজ তারই প্রমাণ দিল। শিরৈাপা না জিতলেও, নরওয়ের এ ঐতিহাসিক যাত্রা তাদের ফুটবলকে সামনে এগিয়ে নেয়ার ইঙ্গিত দেয়।





