জার্মানির ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যম 'স্পোর্ট বিল্ড' ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের পর ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমে কার্লো আনচেলত্তির ফেলে যাওয়া কিছু গোপন কৌশলগত নথিপত্র ফাঁস করেছে। সেই নথি বলছে, টাইব্রেকারের জন্য আগে থেকেই অবিশ্বাস্য রকম জোরদার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন আনচেলত্তি। কাগজে আঁকা স্কেচগুলোতে নরওয়ের কোন খেলোয়াড় পেনাল্টির সময় জালের কোন কোণায় শট নেন, গোলকিপার আরিয়ান নেলান্দের পেনাল্টি ঠেকানোর ধরনই বা কেমন-তার নিখুঁত বিবরণ ছিল সেই নথিতে।
তথ্য জোগানো কোচের দায়িত্ব, কিন্তু ক্ষোভের জায়গাটা অন্যখানে। সমালোচকদের মতে, আনচেলত্তির এই নথিই প্রমাণ করে তিনি নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ম্যাচ জেতার চেয়ে টাইব্রেকারের ভাগ্যপরীক্ষার ওপর বেশি ভরসা করেছিলেন। যে ব্রাজিল তার চিরচেনা আক্রমণাত্মক ও শৈল্পিক ফুটবলের জন্য পরিচিত, তারা কেন নকআউটের মঞ্চে নরওয়ের মতো দলের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ শেষ করার ছক কষতে পারল না, তা নিয়ে খোদ ব্রাজিলের সমর্থকরাই এখন ক্ষুব্ধ। তাহলে কি অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক এই মনোভাবই শেষ পর্যন্ত সেলেসাওদের ডোবাল?
আরও পড়ুন:
চলতি বিশ্বকাপের মাঝপথেই সংবাদ সম্মেলনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার খেলার ধরন নিয়ে খোঁচা দিয়ে আনচেলত্তি বলেছিলেন, আলবিসেলেস্তেরা নাকি হাই-ইন্টেন্সিটির ফুটবল খেলছে না এই বিশ্বকাপে । অথচ, সেই লো-ইন্টেন্সিটির আর্জেন্টিনা ঠিকই পৌঁছে গেছে এই আসরের সেমিফাইনালে। আর প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করা আনচেলত্তি নিজে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ জেতার ছক না কষে, ড্রেসিংরুমে শুধু কাগজের নোট লিখে বিদায় নিলেন শেষ ষোলো থেকে
প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করার চেয়ে নিজের দলের রক্ষণাত্মক মানসিকতা দূর করার দিকে মনোযোগ দিলে হয়তো সেলেসাওদের ড্রেসিংরুমের আবর্জনা থেকে কোচের গোপন কৌশল ফাঁসের নাটক দেখতে হতো না। মাঠের ভুল পরিকল্পনা আর কোচের রক্ষণাত্মক মনোভাবের খেসারত দিয়ে আরও চার বছরের অপেক্ষা বাড়লো ব্রাজিলের।
