দেশের উত্তরের ছোট্ট উপজেলা সৈয়দপুরের অর্থনীতির বড় অংশ দখল করে আছে হালকা প্রকৌশল শিল্প বা সহজ ভাষায় বললে লেদ মেশিনের কারখানাগুলো। শুধু উপজেলা নয়, জেলা ছাড়িয়ে গোটা দেশেই বিভিন্ন যন্ত্র সরবরাহ করে আসছে সৈয়দপুরের প্রায় সাড়ে ৪০০ কারখানা।
খড় কাটা মেশিন থেকে শুরু করে রেলওয়ের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে এ প্রতিষ্ঠানগুলো। পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি মেশিন এখানেই তৈরি করে সাশ্রয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। কেউ কেউ সম্পূর্ণ নতুন মেশিন তৈরি করে সরবরাহ করছেন চাহিদা অনুযায়ী।
কিন্তু বছরে কোটি টাকা আয় করা এ প্রতিষ্ঠানগুলো পাচ্ছে না কোনো ধরনের সুযোগ সুবিধা। নির্দেশনা থাকলেও ব্যাংক ঋণ পায় না প্রতিষ্ঠানগুলো। নতুন মেশিন উদ্ভাবনের জন্য গবেষণায় কোন বরাদ্দ নেই। সবচেয়ে বড় কথা এইসব মেশিন উদ্ভাবনের পর সত্ত্ব রেজিস্ট্রেশনের কোনো সুবিধাও নেই। নেই কোনো মার্কেটিং পলিসি।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো স্পেশাল স্কিম নেই, যেখানে আমরা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পাব, সেখানে কোনো মর্টগেজ লাগবে না এবং সেখানে লোনের ইন্টারেস্টের পরিমাণ সিঙ্গেল ডিজিটে থাকবে।’
হালকা প্রকৌশলের এ শিল্পকে বিশ্বের সামনে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রতি দুই বছরে একটি মেলার আয়োজন করে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল ও বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতাধীন এ মেলা শুধু আয়োজনেই সীমাবদ্ধ। কোনো সুবিধাই নিশ্চিত করতে পারে না কর্মকর্তা ও নেতারা। ব্যাংক ঋণের প্রশ্নে তাই অগোছালো উত্তর এ কর্মকর্তার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এলইপিবিপিসির উপ পরিচালক এস এম আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা যেটা করি, সেটা হলো যে বিভিন্ন সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলো নিয়ে এসে এক প্লাটফর্মে বসার জন্য, ইন্ডাস্ট্রির সমিতি থেকে যারা আছে তাদেরকে। পলিসি লেভেলে কিছু তো সীমাবদ্ধতা থাকে। তারপরও চেষ্টা চলছে। একসময় এটাও হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।’
তবে, কিছুটা আশার বাণী শোনালেন রেলের এ কর্মকর্তা। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা আধুনিকায়ন হলে কিছু সুবিধা পাবেন লেদ কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা। তবে, ওপর থেকে সুবিধা আদায় করার বিষয়ে শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ লাইটি ইঞ্জিনিয়ারিং এর সৈয়দপুরের সভাপতি।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কর্ম ব্যবস্থাপক মমতাজুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় যে শিল্পগুলো গড়ে উঠেছে এবং সেখানে যে দক্ষ কারিগর রয়েছে, তাদের ঐকান্তিক চেষ্টায় কিন্তু আমরা বেশ গুণগত সম্পন্ন স্পেয়ার্স আমরা পাচ্ছি।’
বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা শাখার সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে যদি হেল্প করা যায়, ঋণের যদি ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে আমরা কিন্তু আরো বেশি বেশি মেশিন, আরও বেশি বেশি যন্ত্রপাতি আমরা তৈরি করতে পারব, ইনভেস্ট করতে পারব।’
তবে, কিছুদিন আগে শিল্প মন্ত্রী বিসিক পরিদর্শন করে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এর এসব প্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



