আজ (বুধবার, ২০ মে) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ ও আনোয়ার হাকিম।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন ও আব্দুল করিম। এছাড়া মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম ও শাহ আলমকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
অন্য পাঁচ আসামি— আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল ও মিনহাজ উদ্দিনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন। একই ঘটনায় দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলায়ও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় আদালত প্রাঙ্গণে। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এ দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন (২৩)। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় সাধারণ মানুষ, নিহত সেনা কর্মকর্তার স্বজন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। তানজিমের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



