ফিফা বিশ্বকাপ: গরমের প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি
ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি | ছবি: সংগৃহীত
0

দরজায় কড়া নাড়ছে ফিফা বিশ্বকাপ। তবে তার আগে বেধেছে এক বড় বিপত্তি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ হতে পারে প্রচণ্ড গরমে। যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও দর্শকের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে চরম গরম খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে বৈশ্বিক ফুটবলার সংগঠন ফিফপ্রো এবং জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ১০৪ ম্যাচে মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ ম্যাচেই তাপমাত্রা নিরাপদ সীমা ছাড়াতে পারে। বিশেষ করে মায়ামি, কানসাস সিটি, নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়াকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

জলবায়ু বিজ্ঞানী ডক্টর থিওডোরে কিপিং জানান, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের তুলনায় এখন বিপজ্জনক ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার অনেক বেড়েছে। ফিফপ্রোর মতে, ডব্লিইবিজিটি ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালে কুলিং ব্রেক প্রয়োজন এবং ২৮ ডিগ্রি ছাড়ালে ম্যাচ স্থগিত করা উচিত। গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, অন্তত পাঁচটি ম্যাচ এমন বিপজ্জনক অবস্থায় অনুষ্ঠিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডালাস, হিউস্টন ও আটলান্টার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়াম খেলোয়াড়দের কিছুটা সুরক্ষা দিলেও দর্শকরা বাইরে তীব্র গরমের মুখে পড়বেন। ফ্যান জোন, রাস্তা ও স্টেডিয়ামের বাইরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করায় সমর্থকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচও উচ্চ তাপমাত্রার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরেক জলবায়ু বিজ্ঞানী ডক্টর ক্রিস মুলিংটন জানান, ফুটবলাররা অভ্যস্ত ও ফিট হওয়ায় গরমে স্বাস্থ্য ঝুঁকির চেয়ে পারফরম্যান্সে প্রভাব বেশি পড়বে। খেলোয়াড়রা ধীরগতির ও রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেন। তবে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে অসুস্থতা ও হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা বেশি। তিনি আরও বলেন, প্রতি অর্ধে তিন মিনিটের পানি বিরতি যথেষ্ট নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে গ্রীষ্মকালে এ ধরনের বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের সময়সূচী পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তাদের মতে, বছরের অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা সময়ে বিশ্বকাপ আয়োজন আরও নিরাপদ ও উপভোগ্য হবে।

ইএ