রমজানকে স্বাগত জানাতে কোমল পানীয়ের পুরোনো ক্যান কেটে রং-বেরঙের লন্ঠন বানাচ্ছে এক ফিলিস্তিনি। সেগুলো দিয়ে জরাজীর্ণ তাঁবু সাজিয়ে উৎসবের আমেজ আনার চেষ্টা করছেন।
খান ইউনিসের বাসিন্দা মোহাম্মদ আল নাজ্জর এই কাজগুলো করেন বিনা পারিশ্রমিকে। রমজান ঘিরে শিশুদের মনে একটু আনন্দ দেয়াই তার মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা রমজানে অনেক আনন্দ করতাম। রং-বেরঙের লন্ঠন ঝুলিয়ে সাজাতাম। কিন্তু যুদ্ধের কারণে আসল সাজসজ্জার জিনিস পাওয়া যায় না। তাই পুরোনো ক্যান দিয়েই নিজেকে এবং শিশুদের খুশি করার চেষ্টা।’
উল বুনতে ব্যস্ত দেইর আল বালাহর বাসিন্দা ফাতেমা আবু হাতাব। রঙিন সুতোয় বুনছেন নানা রকম সাজজ্জার জিনিস। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও রমজান মাসে গাজাবাসীর মনে উৎসবের ছোঁয়া ছড়িয়ে দিতে তার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
তিনি বলেন, পুরোনো, অকেজো জিনিস থেকেই এমন কিছু বানানোর চেষ্টা করছি যা ব্যবহার করা যাবে। যুদ্ধ, কষ্টের মধ্যেও আমরা রামজানকে স্বাগত জানাতে চাই। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো এখানকার শিশুরাও খুশি হতে চায়।
আরও পড়ুন:
এদিকে, রাহাফ সীমান্তে সীমিত আকারে মানবিক সহায়তা প্রবেশে কিছুটা আশার আলো জেগেছে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। যদিও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে গাজার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এক বেলার খাবার জোগাড় করতেই পরিবারগুলোকে লড়াই করতে হচ্ছে। তার ওপর রোজায় খাদ্য সংকট নিয়ে শঙ্কায় বাসিন্দারা।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘যুদ্ধ এবং শোষণের ফলে সবাই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। পণ্যের দাম কম এবং সহজলভ্য হলেও কারো সামর্থ্য নেই।’
তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় রমজানের পণ্য পর্যাপ্ত থাকলেও, বেশিরভাগ মানুষের হাতে নেই অর্থ। রমজানের প্রস্তুতিও তাদের কাছে হয়ে উঠেছে বিলাসিতা। আগের বছরের তুলনায় এ বছর রোজার পণ্যের কেনা-বেচা কম বলে জানান বিক্রেতারা।
স্থানীয় বিক্রেতা বলেন, ‘সবাই অনেক চিন্তিত, তাদের ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি করুন, কারো কাছে অর্থ নেই। তবে ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়, যার অ্যাক্সেস সবার নেই।’
যুদ্ধবিরতি চললেও সারাক্ষণই গাজাবাসীকে তাড়িয়ে বেড়ায় ইসরাইলি হামলার শঙ্কা। বিধ্বস্ত বাড়িতে কোনো মতে দিন পার করছেন ফিলিস্তিনিরা। তাদের প্রত্যাশা রোজার মধ্যে যেন একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারেন তারা।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



