Recent event

নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি; বাস্তবায়নে কচ্ছপ গতি

আগামীর রাজধানী নিরাপদ ও বাসযোগ্য করার প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদে
আগামীর রাজধানী নিরাপদ ও বাসযোগ্য করার প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদে | ছবি: এখন টিভি
0

রাজধানীকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলাই এখন ঢাকার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্য। পানি, গ্যাস, সামাজিক নিরাপত্তা, মশক নিধন, খাল খননসহ সব ধরনের নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার তাদের। তবে, নগরবাসীর অভিযোগ নির্বাচিত হওয়ার পর এসব প্রতিশ্রুতি ভুলে যান তারা। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের নির্বাচনের পর যদি সংসদ সদস্যরা তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করেন, তবে জনপ্রতিনিধিদের ওপর থেকে আস্থা হারাবেন ভোটাররা।

যানজট, দূষণ,বর্জ্য, নদী দখল, গ্যাস সংকট। এমন নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত মেগা সিটি ঢাকা। আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ এ শহরের বুকে নিজেদের ঠাঁই খুঁজে নিয়েছে। তবুও শহর টিকে আছে, হারিয়েছে স্বকীয়তা। কবে ফিরবে ঢাকার আগের ঐতিহ্য আর সৌন্দর্য? নাকি আদৌ আর ফিরবে না।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা রাজধানীর পূর্বের রূপ ফিরিয়ে আনতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তাদের ইশতেহারে বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খেলার মাঠ উদ্ধার, গ্যাস সংকটের সমাধান, খাল খননসহ রয়েছে বিভিন্ন বিষয়।

ঢাকা ৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘এক নাম্বারে যানজট, দুই নাম্বারে গ্যাস। তার পর অবকাঠামোগত উন্নয়ন আছে অনেক।’

আর ঢাকা ৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা বলেন, ‘গ্যাস সংকট, তার পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যে অব্যবস্থাপনায় স্কুল ও বাসার পাশে থাকায় মানুষের সমস্যা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে।’

আরও পড়ুন:

এদিকে, ঢাকা ৯ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘এলাকার মানুষ আমাকে ভালোভাবেই চিনে। তাদেরকে বলি যদি মনে করেন হাববি ভালো তাহলে আমাকে ভোট দিবেন। ভালো না মনে করলে দিয়েন না।’

ঢাকাবাসী বলছেন, নির্বাচন এলেই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে ভোটারদের কাছে আসেন প্রার্থীরা। নির্বাচন যায়, নির্বাচন আসে, কিন্তু তাদের ভাগ্যের আর উন্নতি হয় না।

স্থানীয়রা জানান, উড়ন্ত পাখির মতো অনেকে এসে অনেক প্রতিশ্রুতি দেন। আর নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের কাছে যেতে আমাদের অনেক সিরিয়াল লাগে।

ঢাকাবাসীর কাছে রাজধানী এখন এক আতঙ্কের নগরী। অপরিকল্পিত নগরায়ন আর অব্যবস্থাপনায় প্রায়ই ঘটে অগ্নিদুর্ঘটনা। বছরের প্রায় ৮ মাস থাকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, তীব্র যানজট আর মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণে বছরজুড়েই ভোগান্তি পোহাতে হয় বাসিন্দাদের। রাজধানীর এমন জীর্ণ রূপ আদৌ কী বদলানো সম্ভব? প্রশ্ন ছিলো এ নগর পরিকল্পনাবিদের কাছে।

পরিকল্পনাবিদ আকতার মাহমুদ বলেন, ‘বেশির ভাগ সময় এ প্রতিশ্রুতিগুলো কথার ফুলঝুড়ির মতো থাকে। বাস্তবায়নটা স্বল্পমাত্রায় দেখা যায়। এটা রাজধানী যদি এখানের উন্নয়ন করতে হয়, তাহলে অবশ্যই সংসদ সদস্যদের স্থানীয় মেয়রের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’

ভোটাররা বলছেন, নির্বাচনের আগে অতিথি পাখির মতো উড়ে এসে প্রার্থীরা নানা কথা বললেও নির্বাচনের পর তারা সব ভুলে যান। এ সংস্কৃতি থেকে জনপ্রতিনিধিরা বের হয়ে আসতে না পারলে কখনই ঢাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়।

জেআর