মাঘের শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়, কুয়াশা–ঠান্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন

শীতের সকাল ও শ্রমজীবীরা কাজ করছেন
শীতের সকাল ও শ্রমজীবীরা কাজ করছেন | ছবি: এখন টিভি
0

হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ে বরাবরই শীতের তীব্রতা বেশি। মাঘের শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত। ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে লড়াই করে ভাত কাপড়ের সংগ্রাম করছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। গরম কাপড়ের অভাবে কষ্টে রাত কাটছেন অনেকের।

অগ্রহায়ণে নতুন ধানের ঘ্রাণ শেষ হওয়ার আগেই হিমালয়কন্যা সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসে শীত। কুয়াশা ঢাকা পথঘাট, বয়ে চলা উত্তরে হাওয়া, জবুথুবু জীবন এ শীতকাল।

উত্তরে শীত আসে দুর্যোগ হয়ে। শুভ্র জনপদে নেমে আসে নিস্তব্ধতা, আর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি খেটে খাওয়া মানুষের। ভোরের জনপদে যখন মানুষ লেপ-কাঁথার উষ্ণতায় আশ্রয় নেয় তখন দুমুঠো ভাতের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন অনেকেই। বরফ-ঠান্ডা নদীর পানিতে নেমে বালু-পাথর সংগ্রহের কঠিন লড়াই।

নিম্ন আয়ের মানুষরা জানান, শীতের সময় কাজ করলে তারা ডাঙায় এসে আগুনে এসে শরীর গরম করেন। পরে আবার ঠান্ডা নদীতে নেমে কাজ করেন।

একজন বালু পাথর শ্রমিক বলেন, শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা কাজ করেন তারা।

দৈনিক আয় নির্ভর মানুষের এ লড়াই প্রকৃতি সঙ্গে নিত্যকালের। পৌষ আর মাঘ এলেই বেকার সময় পাড় করেন অসংখ্য মানুষ। এসময় জমে ওঠে শাক-সবজির আবাদ। কুয়াশা ভেদ করে মাঠে নেমে ঘাম ঝরান প্রান্তিক কৃষকরাও।

আরও পড়ুন:

নারী শ্রমিকরা জানান, কাজ নেই বর্তমানে তাদের হাতে। পাথর ভেঙে চালাই সংসার। শীতের এ সময় হাতে এখন সে কাজও নেই।

অসহায় মানুষের ভরসা খড়কুটোর আগুন। সরকারি সহায়তা পৌঁছায় না অনেক ঘরেই। তাই পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে বাড়ছে মানুষের ভিড়। এদিকে শৈত্যপ্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ। হাসপাতালেও বাড়তি চাপ।

ক্রেতারা জানান, দামি দামি শীতের পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই তাদের। বড় বড় মার্কেটে থেকে তারা জামা-কাপড় কিনতে পারেন না। তাই রাস্তার পাশের দোকানগুলোতেই ভিড় জমিয়েছেন তারা।

জেলায় সরকারিভাবে শীতবস্ত্র এসেছে মাত্র ১৬ হাজার। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জেলা প্রশাসনের।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপন অধিদপ্তর থেকে আমরা নগদ ৩০ লাখ টাকা পেয়েছিলাম। সে টাকা দিয়ে আমরা ৮ হাজার ৬৪০ পিছ আমরা কম্বল কিনেছি। এছাড়াও উপদেষ্টার দপ্তর থেকে আরও সাড়ে সাত হাজার কম্বল পাওয়া গেছে।’

সীমান্ত এ জেলায় বর্তমানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। পৌষ ও মাঘের এই দুই মাসে পঞ্চগড়কে দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা করে বিশেষ সহায়তার দাবি স্থানীয়দের।

এফএস