জামালপুরে কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন; দাম কমায় কৃষকের ‘মাথায় হাত’

যোবায়ের রহমান
জামালপুর
মরিচ তুলছেন চাষীরা
মরিচ তুলছেন চাষীরা | ছবি: এখন টিভি
0

জামালপুরে এবারের মৌসুমে কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে সরবরাহ বেশি থাকায় কাঁচামরিচের দামও ক্রেতাদের হাতের নাগালে চলে এসেছে। এতে স্থানীয়রা উপকৃত হলেও, ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তবে জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মৌসুমে এ খাতে বাণিজ্য হবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মৌসুমের শুরুতে কাঁচামরিচের ভালো ফলন হয়েছে। তবে অতিরিক্ত শীত ও পর্যাপ্ত সরবরাহ কারণে দাম কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদি সার-বীজের দাম অনুযায়ী কেজিপ্রতি মরিচের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা থাকে; তাহলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

৮০ হাজার টাকা খরচ করে চলতি মৌসুমে এক একর জমিতে মরিচ চাষ করেছেন জামালপুর পৌরসভার হাটচন্দ্রার বাসিন্দা আল আমিন। তবে প্রচুর সরবরাহে দাম কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

আল আমিন জানান, শ্রমিক মজুরি ও সার কীটনাশকের দাম মিলিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। সরকার বাজার তদারকির মাধ্যমে মরিচের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সার ও কীটনাশকের দামের বিষয়ে নজর দেয়, তাহলে কাঁচামরিচ চাষে লাভবান হবেন—এমনটাও জানান তিনি।

দেশের উত্তরের এই চরাঞ্চলে প্রতি বছরই অনেক কৃষক কাঁচামরিচ চাষ করেন। তারা বলছেন, মরিচের দাম কিছুটা বৃদ্ধি; সার ও কীটনাশকের দাম কমলে লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা আছে।

আরও পড়ুন

শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করতে ২০০ টাকা মজুরি পান তারা। যদি মরিচের ভালো দাম পাওয়া যায়, তাহলে দৈনিক মজুরিও বাড়বে। এই মজুরিতে সংসার চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জেসমিন জাহান বলেন, ‘কৃষকদের সব রকমের সহযোগিতার পাশাপাশি বাজার মনিটরিংয়ের মতো কার্যক্রম নিয়মিত করা হচ্ছে, যাতে তারা লাভবান হন।’

উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে জেলার ৭ উপজেলাতে ৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে কাঁচামরিচের চাষ হয়েছে।

জেআর