চুয়াডাঙ্গায় যৌথবাহিনীর অভিযানে আটকের পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শামসুজ্জামান ডাবলু
জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শামসুজ্জামান ডাবলু | ছবি: এখন টিভি
0

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটকের কিছুক্ষণ পর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু মারা যান। তিনি জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

পরিবার ও নেতাকর্মীদের অভিযোগ নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ডাবলুকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় লোকজন সকাল থেকেই জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটের সামনে জড়ো হন। বিক্ষুব্ধ নেতা কর্মীরা সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় সড়কের মাঝে তারা আগুন জ্বালিয়ে শামসুজ্জামানের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। গতকাল (সোমবার, ১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর পৌর এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

এদিকে সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জীবননগর থানার পুলিশ শামসুজ্জামানের মরদেহের সুরতহাল করেছে।

ডাবলুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার দাবি করা হলেও, পুলিশ বলছে এখনো মামলা রেকর্ড করা হয়নি।

আরও পড়ুন:

আজ (মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি) সকালে ডাবলুর মরদেহ দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এসময় তারা উপস্থিত নেতা কর্মীদের জানান, নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিক্ষুব্ধ নেতা কর্মীদের শান্ত থাকতে বলেন।

তিনি বলেন, ‘এটা যদি হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘শামসুজ্জামানের মৃত্যুর পর সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান তাকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসুজ্জামান শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল জীবননগর পৌর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসি থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসএস