যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের টানাপোড়েন: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাড়ছে উত্তেজনা

ট্রাম্পের চক্ষুশূল কে এই নিকোলাস মাদুরো
ট্রাম্পের চক্ষুশূল কে এই নিকোলাস মাদুরো | ছবি: এখন টিভি
0

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের শাসনামল থেকেই দেশটির সঙ্গে তিক্ততার সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের। তবে ২০১৩ সালে মাদুরো ক্ষমতায় আসার পর উত্তেজনার পারদ ক্রমেই বাড়তে থাকে। এর আগে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে কারাকাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল বাতিলও করে ওয়াশিংটন। এছাড়া, শুরু থেকেই মাদুরো প্রশাসনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগও তুলে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন।

কয়েক মাসের হুমকির পর অবেশেষে ভেনেজুয়েলার স্থলপথে হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র। শুধু হামলা নয়, প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দী করে দেশের বাইরে নিয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ভেনেজুয়েলার মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পরিকল্পনা এক রাতে নেয়নি ওয়াশিংটন। বেশ কয়েকমাস ধরেই কারাকাসে আক্রমণের ছক কষেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ক্যারিবিয়ান সাগরে অবৈধ মাদক পরিবহন। হোয়াইট হাউজের দাবি, আন্তর্জাতিক মাদক গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত মাদুরো প্রশাসন মদদ দিচ্ছে সাগরপথে মাদক চোরাচালানের। এটি নির্মূলে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলা উপকূলে একের পর এক দেশটির পতাকাবাহী জাহাজে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এসব আগ্রাসনে প্রাণহানির সংখ্যাও ছাড়ায় শতাধিক। এরপর ধীরে ধীরে দেশটির স্থলপথে হামলার জন্য পুয়ের্তো রিকোতে অস্ত্র মজুদ করতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:

তবে ঠিক কোন কারণে চীন রাশিয়া ছাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু তালিকায় ভেনেজুয়েলা তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। কারাকাসে হামলার পর ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বের খবর।

১৯৯৯ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে হুগো চাভেজ ক্ষমতা নেয়ার পর কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেসময়ে চাভেজ আফগানিস্তান ও ইরাকে সংঘটিত মার্কিন হামলার বিরোধিতা করেন এবং ওয়াশিংটনের প্রতিদ্বন্দ্বী কিউবা ও ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এর প্রতিশোধ হিসেবে ২০০২ সালে চাভেজকে হটাতে অভ্যুত্থানের মদদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর, ২০১৩ সালে মাদুরো ক্ষমতায় আসার পর তার সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিরোধীমত দমনের অভিযোগ তোলে ওয়াশিংটন।

এছাড়া, ২০১৮ সালে ভেনেজুয়েলায় অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করে হুয়ান গুয়াইদোকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সবশেষ ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও মাদুরোর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তোলে ট্রাম্প প্রশাসন। সেসময়ে মাদুরোর প্রতিদ্বন্দ্বী এডমুন্ডো গঞ্জালেস বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলেও দাবি করে ওয়াশিংটন।

তবে দেশ ও দেশের বাইরে ভালো ইমেজ নেই নিকোলাস মাদুরোর। সাধারণ বাসচালক থেকে ২০১৩ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন তিনি। জাতিসংঘের হিসেবে, তার শাসনামলে ২০ হাজারের বেশি মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এছাড়া, ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া কারিনা মাচাদোকেও গৃহবন্দি করে রাখে মাদুরো প্রশাসন।

ইএ