হৈমন্তি হাওয়ায় পায়ের শব্দ পাওয়া যায় শীতের। সেই শব্দ নগরবাসীর কানে উঠে আসে না এখন তেমন। কানে নেয়ার ফুরসত কোথায়? ব্যস্ততা আর কংক্রিটের আছে আড়াল। সেই সুযোগটি নেয় শীত সংগোপনে এসে জড়িয়ে ধরে । এবারও তেমনটিই হলো। তবে এবারের আলিঙ্গনে হিমের কঠোরতা বেশ।
কংক্রিটের এ তিলোত্তমায় হঠাৎ কুয়াশার চাদর। বুড়িগঙ্গার বুক ছুঁয়ে উঠে আসা ধূসরতা, লঞ্চঘাটের নিস্তব্ধতা আর ভোরের ঠান্ডা বাতাস এ যেন ঢাকার অন্য এক রূপ।
রিকশার ঘণ্টাধ্বনি বা বাসের হর্ন কুয়াশা ভেদ করে শহরের ক্লান্ত হৃদয়কে জানিয়ে দেয়—জীবন এখনো চলছে।
শ্রমিকদের একজন বলেন, ‘আমাদের কাজ করতেই হয়। দিন নেই, রাত নেই, আমাদের কাজ করতে হয়। শীতের তীব্রতার মধ্যেও ঘর থেকে বের হয়ে কাজ করি।’
শীত এলে শরীর বাড়তি যত্ন চায়। ঠান্ডায় সর্দি-কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট থেকে রেহায় পেতে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।
আরও পড়ুন:
ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী ডা. অদিতি আরা তৃষা বলেন, ‘ডাস্ট রিলেটেড যেসব অসুখ সেগুলো বাড়তে পারে। অ্যাজমা বাড়তে পারে, সেজন্য আমাদের মাস্ক পড়তে হবে। অবশ্যই গরম কাপড় পড়তে হবে। আর বাচ্চাদের, বৃদ্ধদের কানটুপি খুব কাজে আসে। ঠান্ডা বাতাস যেন বুকে আর কানে না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই শহরের ফুটপাত ও অলিগলিতে বাড়ে উৎসবের রঙ। ভাপা পিঠা, চিতই, পাটিসাপটার গন্ধে ব্যস্ত নগরজীবন যেন হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়।
নগরবাসীরা জানান, শীতের দিনে খাবারের বিকল্প নেই। রাস্তার পাশে পিঠা তৈরি করা হয়। নগরবাসীরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকে এ মুহূর্তের জন্য।
রাতের ঢাকা রূপ নেয় অন্য এক দৃশ্যপটে। কোথাও গায়ে শাল জড়ানো নিশ্চিন্ত ঘুম, কোথাও কেবল খোলা আকাশ আর পুরনো কম্বলের ভরসা।
স্ট্রিটলাইটের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা নামহীন মানুষগুলো এ শহরের বৈষম্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।





