দেশে এখন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করলেন ৫০ জলদস্যু

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের ১২টি জলদস্যু বাহিনীর ৫০ জন সদস্য আজ অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। এদের মধ্যে ৪৯ জন পুরুষ ও একজন নারী। আজ (বৃহস্পতিবার, ৩০ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা র‌্যাব-৭ এর এলিট হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন।

রহিমা খাতুন, বাঁশখালীর সাগরে জেলেদের কাছে এই নারী জলদস্যু এক সময় ছিলেন আতঙ্কের নাম। বাকি ৪৯ জনের সাথে অন্ধকার জীবন ছেড়ে তিনিও এসেছেন স্বাভাবিক জীবনে। সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রশান্তি ও আকুতি ছিলো তার কন্ঠে।

কদিন আগেও এই জলদস্যুরা চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার উপকূলে জেলেদের ভয় ও আতঙ্কের কারণ ছিল। অস্ত্রের মুখে জেলেদের আহরিত মাছ, ট্রলার, জাল ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনই ছিল তাদের কাজ। এদের কেউ কেউ ১০-১৫ বছর কেউ আবার ৩০ বছর ধরে জড়িত দস্যুতায়। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক খুন , ডাকাতি ও অস্ত্রের মামলা।

র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মো.শরীফ-উল-আলম জানান, শর্তহীনভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের ১২টি বাহিনীর মোট ৫০ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন।

তিনি জানান, জলদস্যুরা ৩৫টি একনলা বন্দুক, ১৮টি এসবিবিএল, ১৭টি ওয়ান শুটার গান, ১টি দুইনলা বন্দুক, ১টি পিস্তল, ১টি রিভলভার, ৩টি বিদেশি পিস্তল, ১টি এসএমজি ও ২টি এয়ারগান সহ মোট ৯০টি অস্ত্র ও চারটি ওয়াকিটকি জমা দিয়েছে। এছাড়াও গুলি ও কার্তুজ জমা দিয়েছে ২৮৩ রাউন্ড।

বছরের পর বছর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, সাধারণ মানুষের ঘৃণায় ভরা জীবন থেকে এবার আলোর পথের অভিযাত্রী হতে পেরে খুশি সবাই। জলদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এর আগে ২০১৮ ও ২০২০ সালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চলের ৭৭জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে।

আসু

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর