দেশে এখন
বাজার
সিল্কের নান্দনিক ডিজাইনে ক্রেতার আগ্রহ বাড়ছে
ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে বর্তমান, রাজশাহীর ঐতিহ্য সিল্ক আজও উৎসব-পার্বণে আনে আভিজাত্যের ছোঁয়া। ঐতিহ্যের সে ধারাবাহিকতায় নিজেদের ঈদ কেনাকাটায় পূর্ণতা আনতে সিল্কের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন রাজশাহীর সৌখিন ক্রেতারা।

রেশমের চাষবাস, সুতা, কাপড়ের বুনন ও সে কাপড়ে নান্দনিক নকশা এঁকে ক্রেতার সামনে উপস্থাপন। চাহিদার সবটা যোগান দিতে না পারলেও কয়েক শতাব্দী থেকে রাজশাহীর আভিজাত্য রেশম কাপড়।

লেখক ও গবেষক মাহাবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘ধনীরাই রেশমের কাপড় পরেন। আর আগেকার ধনাঢ্য ব্যক্তিরা পরেছেন। পরে জমিদার শ্রেণি ব্যবহার করেছেন। সবমিলিয়ে এরাই বেশি ব্যবহার করতেন। আর এই ঐতিহ্যের পরম্পরা এ অঞ্চলের মানুষ এখনও ধরে রেখেছেন।

সেকাল থেকে একাল, উৎসব-পার্বণে মেয়েদের প্রথম পছন্দ রেশম শাড়ি। পোশাকটি সনাতনী হলেও এর সাজগোজ নিতান্তই আধুনিক, তাই ঈদ কেনাকাটায় সিল্কের শাড়িকে অনেকটা অগ্রাধিকারে রাখেন সববয়সী নারী। ঐতিহ্যের প্রেমে গায়ে জড়ান ১২ হাতের কল্পনা।

সিল্কের শাড়ির এক ক্রেতা বলেন, ‘যেকোন উৎসব ঘিরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মনে মনে একটি রঙ ঠিক করে রাখা হয়। আর পছন্দের সেই রঙের শাড়িটি পেলে কিনে ফেলি।’

এবার ঈদ ও বৈশাখ পাশাপাশি হওয়ায়, আবহাওয়া ও হাল ফ্যাশনের বিবেচনায় র-সিল্ক, তসর, মটকা, মসলিন, এন্ডি সিল্কের শাড়িতে এসেছে বৈচিত্রতা। যা ৩ হাজার ৯শ’ থেকে ৬০ হাজার টাকা দামে পাওয়া যাচ্ছে।

শাড়ির পাশাপাশি সিল্কের থ্রি-পিস, বোরকা, সুতি মটকা সিল্কের মিশ্রণে ছেলেদের পাঞ্চাবি, সিল্কের গজ কাপড়, শিশুর ফতুয়াসহ ঈদ কেনাকাটায় সববয়সী ক্রেতার সমাগম বাড়ছে প্রতিদিন। আর পছন্দের সেরা পোশাকটি কিনতে আসছেন বিদেশি ক্রেতারাও।

ক্রেতারা বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে আসছি, সবার জন্যই কেনাকাটা করছি। আর দামও সাধ্যের মধ্যে আছে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ কেনাকাটায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ফ্যাশন আর ক্রয়ক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

রাজশাহীর উষা সিল্কের ব্যবস্থাপনা পরচিালক জহুরুল ইসলাম অপু বলেন, ‘এবারের পরিবেশ আমরা সবদিক দিয়ে ভালো পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, গতবারের চেয়ে এবার বেচাকেনা বেশি হবে।’

আমেনা সিল্কের ব্যবস্থাপক শরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা এবার মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সিল্কের পণ্য তৈরির চেষ্টা করেছি। আর ক্রেতাদের জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

চলতি বছর বিসিকের ১০টির বেশি সিল্ক কারখানায় ঈদ ও বৈশাখ উপলক্ষে ৮০ হাজারের বেশি শাড়ি-কাপড় উৎপাদন করা হয়েছে।

এওয়াইএইচ