প্রযুক্তি সংবাদ
তথ্য-প্রযুক্তি
পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানব মস্তিষ্কে নিউরালিংকের চিপ
সৃজনশীল খেলাটিতে মস্তিষ্কপ্রসূত চাল দিতে ব্যবহার করতে হয় হাত। তবে হাতের বদলে যদি শুধু মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি দিয়েই চাল দেয়া যায় তাহলে কেমন হবে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি ল্যাপটপে খেলছেন দাবা, তবে কোনো হাতের স্পর্শ ছাড়াই। নিউরালিংকের ব্রেইন চিপ ব্যবহারের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে এমন অসাধ্য সাধন। চিপটি ব্যবহারে শুধু চিন্তাশক্তির মাধ্যমে মস্তিষ্ক সংক্রান্ত জটিলতায় ভোগা ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা করছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানটি।

২৯ বছর বয়সী নোলান্ডের কাঁধের নিচের অংশ অকেজো সড়ক দুর্ঘটনার কারণে। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত নোলাল্ডের মস্তিষ্কে বসানো হয় নিউরালিংকের চিপ। যা ব্যবহারে শুধু চিন্তাশক্তির মাধ্যমে ল্যাপটপে দাবা খেলায় চাল দিতে দেখা যায় এই মার্কিনিকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্সে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে এই দৃশ্য।

মস্তিষ্কে নিউরালিংক চিপ স্থাপনকারী প্রথম ব্যক্তি নোলান্ড আরবাগ বলেন, 'আমার ইচ্ছা মতো আমি খেলতে পারছিলাম না। তবে নিউরালিংক আমাকে পুনরায় সক্ষম করেছে। এখন আমি দিনে ৮ ঘণ্টা খেলতে পারছি।'

২০১৬ সাল থেকে মানব মস্তিষ্কে চিপ বসাতে কাজ করছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক। দীর্ঘ চেষ্টার পর গেল ২০২২ সালের মে মাসে এ কাজে অনুমোদন মেলে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন থেকে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মস্তিষ্কে মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করে এমন স্থানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে ৬৪টি তারের সমন্বয়ে তৈরি ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেস,সংক্ষেপে বিসিআই ।

মানুষের চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম প্রতিটি তার। ফলে তারগুলোর মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কে সিগনাল ট্রান্সমিট করা সম্ভব। স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা বা ব্রেইন ড্যামেজের মতো বিভিন্ন মস্তিষ্ক সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারবে এই চিপটি। এছাড়াও স্পর্শ ছাড়াই চিপের মাধ্যমে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবেন প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ব্যক্তি। এমনকি মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া ব্যক্তিও ফিরে পেতে পারেন স্বাভাবিক জীবন।

নোলান্ড আরবাগ আরও বলেন, 'আগে খেলার জন্য আমাকে মাউস স্টিক ব্যবহার করতে হতো। তবে এখন শুধু মস্তিষ্কের মাধ্যমেই আমি খেলতে পারছি।'

মানুষের আগে টেলিপ্যাথি ডিভাইসটি স্থাপন করা হয়েছে শুকর ও বানরের মস্তিষ্কে। বিসিআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ড ছাড়াই শুধু চিন্তা করে পিংপং বল খেলতে দেখা যায় পেইজা নামের এক বানরকে।

ইএ