রুপার কারিগররা বলেন, ‘এক ভরি রুপার একটা মালা বানালে ৩শ’ টাকা মজুরি দেয়। এই কাজ করে চলা কষ্ট হয়ে গেছে। আর অর্ডারও কম আসে।’
একসময় সোনার চেয়ে রুপার দাম বেশি ছিলো। মুদ্রা তৈরিতেও ছিলো রুপার ব্যবহার। সময়ের সাথে স্বর্ণের তুলনায় রুপার দাম পিছিয়ে পড়েছে। তবুও নারীদের কাছে এখনও রুপার চাহিদা অনেক। নারীরা বলেন, ‘পছন্দ হলে রুপার অলঙ্কার কিনি। আর দামও কম পাওয়া যায়।’
বাজারে অনেক ধরনের রুপা পাওয়া যায়। দেশের রিসাইক্লিং হওয়া রুপা সাধারণ মানুষের কাছে চান্দি নামে পরিচিত। এছাড়া শচীন-সৌরভ নামে পরিচিত রুপা ইতালি থেকে আসে। আর ভারতের রুপা সিএম নামেই পরিচিত।
নরসিংদীর ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘আমরা রুপার দানা কিনে এনে তৈরি করি। রুপা ভারত, বার্মা ও ইতালি থেকে আসে। প্রতি মাসে গড়ে ৫০ ভরি রুপা বিক্রি হয়।’
দেশে প্রতিবছর রুপার চাহিদার প্রায় পুরোটা পূরণ করে রাজধানীর তাঁতীবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এই বাজারে শতাধিক রুপার পাইকারি দোকান রয়েছে। যেখানে খুচরাও বিক্রি করা হয়। দোকানিরা বলেন, ‘৬৪ জেলা থেকেই আমাদের রুপা নিতে আসে। আর এসব রুপা দেশের বাইরে থেকে আসে। আমরা আবার পাইকারদের কাছ থেকে কিনি।’
রাজধানীর তাঁতীবাজারে শতাধিক রুপার দোকান রয়েছে। ছবি: এখন টিভি
বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, ‘আসল রুপার অনেক দাম আছে। রুপার আমদানি নীতি সহজ করতে হবে। আবার আমদানি শুল্ক কমাতে হবে।’
দেশে বাজুস নিবন্ধিত ৪০ হাজার স্বর্ণের দোকান রয়েছে। যদি এসব দোকান গড়ে ৬০ ভরি করে মাসে রুপা বিক্রি করে তাহলে মোট রুপা বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৪ লাখ ভরি। বছরের হিসেবে ২ কোটি ৮৮ লাখ ভরিতে দাঁড়ায়। তবে বাজুস নির্ধারিত দামে বিক্রি হয় না রুপা।
পলিসি রিসার্চ ইনিস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, শুল্ক বেশি হওয়ার কারণে অনেকে লাগেজে করে নিয়ে আসে। এতে করে শুল্ক দিতে হচ্ছে না। এজন্য শুল্ক নীতি পর্যালোচনা করতে হবে।
চোরাইপথে দেশে আসা রুপা বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে কেনা হয়। কিন্তু বেচাকেনার ভ্যাটের টাকা এনবিআর পর্যন্ত পৌঁছায় না। এজন্য এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নজরদারি দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।




