ফরিদপুরে ৮৭ হাজার হেক্টরে পাটের আবাদ; উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৯৫ হাজার টন

ফরিদপুরে পাটের আবাদ
ফরিদপুরে পাটের আবাদ | ছবি: এখন টিভি
0

চলতি মৌসুমে ফরিদপুর জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা পাট কাটা, জাগ দেয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার পাটের ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষি বিভাগ। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষক পাট চাষের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এবার পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ২ দশমিক ২৪ মেট্রিক টন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

তিনি বলেন, ‘ফরিদপুরে দেশের মোট পাট উৎপাদনে প্রায় ৩০ শতাংশ হয়। এখানকার পাটে গুনে ও মানে জগত বিখ্যাত।’

তবে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সেচের প্রয়োজন ছিল। একইসঙ্গে সার, জ্বালানি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এর সঙ্গে প্রতিবছর শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাট চাষে লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:

ফরিদপুরের কানাইপুরের পাটচাষী মোতালেব মুন্সি, হারুন মাতুব্বরসহ বেশ কয়েকজন জানান, বর্তমানে তারা পাট কাটা ও জাগ দেয়ার কাজ করছেন। তবে মৌসুম শেষে বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে লোকশানের মুখে পড়তে হবে।

তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামে সময়মতো পাট ক্রয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিলে কৃষকরা পাট চাষে আরও উৎসাহিত হবেন।

ফরিদপুর কৃষক সমিতির সভাপতি মানিক মজুমদার মনে করছেন, উৎপাদন ভালো হলেও কৃষকের লাভ নিশ্চিত করতে ন্যায্যমূল্য, সহজ বাজারজাতকরণ এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেয়া জরুরি। তাহলেই দেশের অন্যতম পাট উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে ফরিদপুরের ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে।

এসএস