ধান উৎপাদনের জেলা নেত্রকোণা। বছরে প্রায় তিনটি ফসল উৎপাদন হয় এ অঞ্চলে। বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ধানের উৎপাদন হয় এখানে। তবে এখনও চাষাবাদে অনেকটা সনাতন এই জেলা।
চলতি বোরো মৌসুমে হাওর পাড়ের জমিতে ধান রোপনে বাড়তি সময় লাগার পাশাপাশি শ্রমিক সংকটে খরচও বেশি পড়ে। তবে আধুনিক কৃষি যন্ত্রের কারণে কিছুটা সফল হচ্ছেন কৃষকরা। এবছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৪৮০ হেক্টর। এরমধ্যে হাওর অঞ্চলেই আবাদ হবে ৪১ হাজার হেক্টর।
একজন কৃষক বলেন, 'আগে তো হাতে লাগাইতাম। তখন অনেক সময় লাগতো। ধান লাগানোর মতো মানুষ পাওয়া যেতো না।'
অন্য একজন কৃষক বলেন, 'ধান কাটার মেশিন যেমন মানুষ সহজেই পাচ্ছে কিন্তু ধান লাগানোর মেশিন মানুষ পাচ্ছে না।'
আধুনিক কৃষির এই ধারায় এখন মেশিনেই এক ঘণ্টায় রোপণ হচ্ছে এক একর জমির চারা, যা আটজন শ্রমিকের প্রায় সারাদিনের কাজ। ফলে খরচ কমছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
একজন কৃষক বলেন, 'ধান মেশিনে রোপণ হচ্ছে। নির্দিষ্ট চারা নির্দিষ্ট পরিমাপে, নির্দিষ্ট জায়গায় রোপণ হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের সময়, শ্রম সবই কম লাগতেছে।'
কৃষি বিভাগের উদ্যোগে প্রায় ৫০ একর জমি পুরোপুরি আধুনিক কৃষির আওতায় আনা হচ্ছে। এতে শুধু রোপণই নয়, ধান কাটাও হবে মেশিনের সাহায্যে।
নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, 'মেশিন দিয়ে আমরা যে জায়গায় রোপণ করি সেখানে পড়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি এখানে অনেকগুলো পজিটিভ দিক আছে। আমরা জানি যে চারার বয়স কম থাকলে সেখান থেকে ফলনগুলো ভালো হয়। এটা দিয়ে রোপণ করতে হলে চারার বয়স ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে থাকতে হয়। সেজন্য এ চারা রোপণ করার কারণে প্রতিটি জমিতে আমরা যেখানে নরমালি যে ফলন পাই তার চেয়ে বেশি আসবে।'
সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে পুরো জেলায় মেশিনের ব্যবহার ছড়িয়ে দিয়ে কাজ করার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের।
নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, 'যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষির যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে তা আমরা নেত্রকোণা জেলায় সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে চাই।'
নেত্রকোণায় ধান কাটার জন্য হারভেস্টার মেশিন রয়েছে প্রায় ৯০০, যার বিপরীতে জেলায় ধানের চারা রোপণে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিন রয়েছে মোট তিনটি। কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে প্রযুক্তি সহজলভ্য করার।