১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মেতেছে স্পেন। যে উল্লাসের ঢেউ নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম থেকে আঁচড়ে পড়েছে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে।
মাঠের ৯০ মিনিটে তারা সবাই এক দল, এক প্রাণ। তবে এই দলটার সঙ্গে সমর্থন ছিল হাজারও স্প্যানিয়ার্ডদের। যে শক্তিতে স্পেনের জার্সিতে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে চূর্ণ করে এনেছেন গৌরব। উড়িয়েছেন স্পেনের ঝাণ্ডা। দেশের পতাকার পাশাপাশি ফাইনালের মঞ্চে উড়েছে বহু রং আর ডিজাইনের পতাকাও। স্পেনের ফুটবলারদের এই বৈচিত্র্যময় উদযাপনে সাক্ষী হয়েছে স্পেনসহ ফুটবল বিশ্ব।
আরও পড়ুন:
শিরোপা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে বীরের বেশে ফেরেন ইয়ামাল, রদ্রি, তোরেসরা। সেসময়ও স্পেনের ফুটবলারদের কারও হাতে কারও বা কোমরে বাধা ছিলে ভিন্ন পতাকা। বিষয়টি নিশ্চয় দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিশ্বমঞ্চে রদ্রিগো, ফেরান তোরেসদের শিরোপা উদযাপনের খুব বেশি মুহূর্ত না থাকায় ব্যাপারটির সঙ্গে অনেকেই হয়তো অপরিচিত।
তারকা ফুটবলার পেদ্রি গায়ে জড়ানো ছিলো কানারি দ্বীপপুঞ্জের পতাকা। একটু দূরেই ট্রফি জয়ের নায়ক ফেরান তোরেসকে দেখা যায় নীল ও লাল-হলুদ স্ট্রাইপের ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের। ইগলেসিয়াস গালিসিয়া অঞ্চলের, দানি ওলেমো ও অ্যালেক্স বায়েনা তেরাসা ও রোকেতাস দে মারে শহরের পতাকা নিয়ে উদযাপনে মাতেন।
শহরের রাজপথ থেকে রাজপ্রাসাদ পর্যন্ত ছিলো বীরদের বরণে হুলস্থূল কান্ড। বিশ্বকাপ ট্রফি এবং জয়ের নায়কদের দেখতে রাস্তায় নেমে আসে লাখ লাখ সমর্থক।
আরও পড়ুন:
স্পেন আসলে কোনো একক সংস্কৃতির দেশ নয়। এই ব্যতিক্রমী উদযাপনের নেপথ্যে রয়েছে স্পেনের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও প্রশাসনিক ইতিহাস। পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যে বেশ কয়েকটি আলাদা রাজ্য একত্রিত হয়ে বর্তমান স্পেন গঠন হয়। ফলে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে এক হলেও প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক পরিচয় অত্যন্ত সুদৃঢ়। স্পেন ১৭টি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের একটি ইউনিয়ন। প্রতিটি অঞ্চলের রয়েছে নিজস্ব সংসদ, নিজস্ব ভাষা, আলাদা সংস্কৃতি এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব নকশার পতাকা।
বহু রং, বহু ভাষা আর বহু পতাকার এই মেলবন্ধনই স্পেনের ফুটবলকে পৃথিবীর বুকে অনন্য করে তুলেছে। বৈচিত্র্যের মাঝেই যে আসল সৌন্দর্য আর শক্তি তা স্পেনের ফুটবলাররা আরও একবার প্রমাণ করেন ট্রফি হাতে নিয়ে।




