ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই সবুজ ঘাসের গালিচায় বসে পড়লেন ক্লান্ত লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সে নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটায় অনেকটাই মলিন ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এ তারকা।
২০১৬ সালেও ঠিক একইরকমের একটা রাত এই মেটলাইফে দেখেছিলেন মেসি। কোপা আমেরিকার ফাইনাল হেরে কেঁদেছিলেন ২৯ বছরের তরুণ লিও। এক দশকের ব্যবধানে জীবনের অদ্ভুত এক চক্রপূরণের গল্পে সেই মেটলাইফে মেসি আবারও ‘ট্র্যাজিক হিরো’। সম্ভাব্য শেষ ম্যাচে এসে এখানেই লিও কাঁদলেন আবারও।
ফাইনালের আগে নিজেই বলেছিলেন, ভিডিও গেইমের ক্যারিয়ার মোডের মতো চলতে থাকা গল্পটা শেষ করেছিলেন ২০২২ সালেই। তারপরও নামটা মেসি বলেই হয়তো মনের গহীনে সমর্থকদের আক্ষেপ জন্মায়।
৩ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে এক জয়। ক্ষুদে ফুটবল জাদুকরের প্রস্থানটা অবশ্য উপন্যাসের সুখী নায়কের মতো হয়নি। তাতে কি মেসির মাহাত্ম্যটা মলিন হচ্ছে এতটুকুও?
আরও পড়ুন:
হেরে যাওয়ার আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর গল্পটা লিখলেন মেসি। প্রথম ম্যাচেই হয়েছিলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এরপর একে একে বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোলের কীর্তি করেছেন।
ডি-বক্সের বাইরে থেকে সবচেয়ে বেশি গোল কিংবা টানা ৬ বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা হওয়া, বিদায়বেলায় আর কিই-বা করার ছিলো লিওনেল আন্দ্রেস মেসির।
এক বিশ্বকাপ আসরে সবচেয়ে বেশি গোলের সুযোগ তৈরির কীর্তিটাও হয়েছে তার সঙ্গী। সেইসঙ্গে প্রতিপক্ষের গোলমুখে দলের মোট শটের ৫৯ শতাংশই ছিলো তার। চলতি বিশ্বকাপে এটাই সবচেয়ে বেশি।
কিন্তু মেসির গল্প কেবলই পরিসংখ্যানে আটকে রাখার সাধ্য কার। ২০১৬ সালে অবসর ভেঙে ফিরে এসে জিতেছেন দুই মহাদেশিয় শিরোপা আর এক বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির সঙ্গী ছিলো অশ্রু, সিলভার মেডেল। তবে যে কীর্তি মেসি গড়েছেন বিশ্বকাপের মঞ্চে, সেটাকে দ্বিতীয় সেরা করাটাও হয়তো ভক্তদের কাছে অনেকটাই অসম্ভব।




