সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল: মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা

বাংলাদেশ সচিবালয়
বাংলাদেশ সচিবালয় | ছবি: এখন টিভি
0

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল ঘোষণায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষের মাঝে। তাদের শঙ্কা, এতে বাড়তে পারে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বৈষম্য। এদিকে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বেতন কাঠামো জরুরি।

দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে জাতীয় পে-স্কেল। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০ তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা আর সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

তবে এমন এক সময় ঘোষণা হলো নতুন পে স্কেল যখন সরকারের সামনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী চ্যালেঞ্জ। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার যোগান আসবে কিভাবে?

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন স্কেল ঘোষণার পরই সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তাদের মতে, এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের বাজারে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও বৈষম্য দূর করতে বেসরকারি খাতেও নজর দেয়ার দাবি তাদের।

বেসরকারি চাকরিজীবীরা জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বেসরকারি তো একই আছে। বাজারে ঊর্ধ্বগতি। বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন অবশ্যই বাড়ানো উচিত।

এমন বাস্তবতায় অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে। চাপ বাড়বে বেসরকারি খাত ও মূল্যস্ফীতির ওপর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, অতিরিক্ত রাজস্ব যেটা সংগ্রহ হবে সেটাই হয়তো অর্থায়নে ব্যবহার হবে। কিন্তু ঘাটতি একটা কিন্তু থাকবেই। সেই ঘাটতিটুকুর ওপর এটা দেয়ার কারণে অতিরিক্ত একটা চাপ তৈরি হয়েছে। সেটা সামালাবে কিভাবে তার জন্য সরকারের দূরদর্শী থাকা দরকার। কারণ অর্থনৈতিক চালিকাগুলোর অবস্থা ভালো না। সামাল দেয়ার বিষয়টা নির্ভর করবে সরকার রাজস্ব আহরণের গতি কতটুকু বাড়াতে পারছে তার ওপর।

অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবীর বলেন, পে স্কেল বাস্তবায়ন করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। সেক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে ঋণ করতে হবে। সেখানে ট্রেজারি বিল, বন্ড এগুলো ছেড়ে সরকারকে ঋণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন বাড়াতে গেলে তাদের ইনটেনসিভ দিতে হবে। সেগুলোর সংস্থানটা হবে কিভাবে।

ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে বেসরকারি খাতকে মূল্যায়নের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবীদের জন্য বেতন কাঠামো জরুরি বলেও মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।

ইএ