অর্থনীতি , ব্যাংকপাড়া
দেশে এখন
রুমায় সোনালী ব্যাংকের কত টাকা লুট- এখনও অজানা
বান্দরবানের রুমায় পরিকল্পিতভাবে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ করে ব্যাংক ডাকাতির মিশনে নামে সন্ত্রাসী বাহিনী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। দুর্ধর্ষ কায়দায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের দল সোনালী ব্যাংক ঘেরাও করে হামলা চালায়। পরে টাকা লুটসহ ম্যানেজারকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। তবে কত টাকা লুট হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

গতকাল (মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টায় হঠাৎ করেই দেড় ঘণ্টার জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বান্দরবানের রুমা এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ। ফিল্মি কায়দায় এই সময়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালায় উপজেলার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কেএনএফ এর ৭০ থেকে ৮০ জন।

সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আধা ঘণ্টা পরই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা ঘেরাও করে সোনালী ব্যাংকের রুমা শাখা কার্যালয়। সেখান থেকে লুট করে নিয়ে যায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৭টি অস্ত্র। ভাঙচুর চালায় ব্যাংকের। অপহরণ করে নিয়ে যায় সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার মো. নিজাম উদ্দিনকে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দু'জন পুলিশ সদস্য।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের ধারণা, ভল্ট থেকে টাকা লুট করেছে সন্ত্রাসীরা। আর কী পরিমাণ অর্থ লুট হয়েছে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন।

তিনি বলেন, 'ভল্টে আমরা চাবি লাগানো অবস্থায় দেখেছি। কিন্তু এখনও সেটি আমরা ধরিনি। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এতে হাত দেয়াটা আমরা সমিচীন মনে করছি না।'

এদিকে অপহৃত অস্ত্র ও ব্যাংক ম্যানেজারকে উদ্ধারে অভিযান চলমান আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের পর টাকা লুট হয়েছে কি না তা জানা যাবে বলে জানান পুলিশের কর্মকর্তারা।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন বলেন, 'তদন্ত সাপেক্ষে এটা নিশ্চিত হওয়া যাবে। যে এটা করেছে তাকে আমরা আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবো।

এরইমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিজে তদারকি করছেন পুলিশের মহাপদির্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

এমএসআরএস