দেশে এখন

ভারি বর্ষণে ভাঙছে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর

ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের টিপরা পল্লিতে। ভাঙনের কবলে পড়ে বাড়ি-ঘর হারিয়ে অন্যস্থানে সরে গেছে ৫টি পরিবার। বাকি পরিবারগুলোর দিনরাত কাটছে আতঙ্কে। উপজেলা প্রশাসন বলছে, বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

টিলা ভাঙনের দৃশ্য প্রতি বছরই দেখা যায়। প্রবল বেগে নামে পাহাড়ি ঢল। এতে ভাঙে হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের টিপরা পল্লি।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরের একটি টিলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ২৮টি পরিবার শত বছর ধরে বসবাস করে আসছে। গত ছয় বছর ধরে ভারীবর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে ভাঙছে তাদের পল্লির টিলা। এরই মধ্যে কয়েক দফা ভাঙনে ভিটে-মাটি হারিয়ে পল্লি ছেড়েছে ৫টি পরিবার।

চলতি বছর পাহাড়ি ঢলে নতুন করে আবারও ভাঙছে টিপরা টিলা। ঝুঁকিতে রয়েছে পল্লিতে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজটিও। তাদের দাবি, টিলা ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বিলীন হবে পুরো গ্রাম।

একজন বাসিন্দা বলেন, 'আগে এখানে বালু তুলতো, এর কারণে আস্তে আস্তে ভাঙতে ভাঙতে এখন এই অবস্থা। আগে এখানে রাস্তা ছিল, বিভিন্ন গাছ ছিল। সব ভেঙে গেছে। রাস্তাঘাট না থাকলে সেখানে বাস করা যায় না।'

ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ২০২০ সালে ৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে ২৪ পরিবারের জন্য এতো টাকা ব্যয়ে আগ্রহ দেখায়নি মন্ত্রণালয়। উপজেলা প্রশাসন বলছে, এবার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বাসিসন্দাদের অন্যত্র স্থানান্তরের।

চুনারুঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, 'যখন পাহাড়ি ঢলটা আসে তখনই এই ভাঙনটা হয়। এই ২৪টি পরিবারকে রিজার্ভ ফরেস্টের কোনো একটা জায়গায় পুনর্বাসিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।'

শুধু টিপরা পল্লি নয়, ভাঙন দেখা দিয়েছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বিভিন্ন স্থানেও। এরই মধ্যে উদ্যানের একটি স্থাপনা ভেঙে পড়েছে ছড়ায়।

এমএসআরএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর