তিনি বলেন, দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা অত্যন্ত কম। চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে নার্সের সংকট রয়েছে। এ ছাড়া টেকনিশিয়ান ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা অতি দ্রুত করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হাসপাতালে যন্ত্রপাতি নিয়ে আসা হলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল থাকে না। ডায়ালিসিসের জন্য মেশিন আনা হলেও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে সেগুলো পড়ে থাকে। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে অতীতেও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে, যার অনেকগুলো এখনো বিভিন্ন জায়গায় বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আপনারা যন্ত্রপাতি নিয়ে আসবেন, কিন্তু সেগুলো পরিচালনার জন্য লোক থাকবে না এমন হলে চলবে না।’
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনার জন্য টেকনিশিয়ান, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা দ্রুত করতে হবে। অন্যথায় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে না।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গ্রামের মানুষ প্রকৃত অর্থে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতেও অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না।’ তিনি এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি উপযুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
একইসঙ্গে তিনি চিকিৎসকদেরকে আরও মানবিক এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি দেশের নকল নাগরিকের জন্য যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে দেশের চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিতের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। বক্তব্যের আগে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো: মাজহারুল শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এর সদস্য-সচিব অধ্যাপক ডা. হাসান জাফর।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর প্রধান উপদেস্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ড্যাব এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ।—বাসস





