সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় (Ministry of Social Welfare) প্রণীত ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভান্ডার নির্দেশিকা, ২০২৬’ অনুযায়ী সরকারি প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী তথ্য সংগ্রাহকগণ নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রযুক্তির সহায়তায় ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ করা হবে।
আরও পড়ুন:
ফ্যামিলি কার্ড যারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন (Family Card Priority List)
গ্রামীণ হতদরিদ্র, নিম্নআয়ের মানুষ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে:
- উপায়হীন ও নিম্নআয়ের পরিবার: গ্রামীণ হতদরিদ্র পরিবার, উপার্জনে সক্ষম সদস্যহীন পরিবার, ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক (Landless agricultural laborers) ও দিনমজুর পরিবার।
- নারীপ্রধান ও অসচ্ছল পরিবার: বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা বা অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবার এবং ১৫-১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ে রয়েছে এমন পরিবার।
- বিশেষ চাহিদা ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী: শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত (Autistic family member) সদস্য থাকা পরিবার এবং প্রত্যাগত অভিবাসী (বিশেষ করে নারী অভিবাসী) পরিবার।
- কাঁচা বাড়ি ও ভূমিহীন প্রসঙ্গ: যেসব পরিবারের ঘরের দেয়াল মাটি, বাঁশ বা পাটকাঠি দিয়ে তৈরি। এছাড়া যেসব পরিবারের বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই কিন্তু কৃষিনির্ভর কিংবা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা রয়েছে কিন্তু কৃষি জমি নেই, তারাও ভূমিহীন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
- অন্যান্য বাধ্যবাধকতা: ফ্যামিলি কার্ড পেতে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র (NID card) থাকতে হবে এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সুপারিশ লাগবে।
আরও পড়ুন:
যে ৮টি শর্তে ফ্যামিলি কার্ড থেকে বাদ পড়বেন (8 Exclusion Rules for Family Card)
নীতিমালায় একটি বহির্ভুক্তির তালিকা বা ‘নেগেটিভ লিস্ট’ (Negative List) তৈরি করা হয়েছে। নিচের যেকোনো ১টি শর্ত মিললে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না:
- ১. পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমা: সরকার নির্ধারিত প্রক্সি মিনস টেস্ট (PMT Score) স্কোরের বেশি নম্বর পাওয়া পরিবার।
- ২. নিয়মিত বেতনভূক্ত নারীপ্রধান: পরিবারের নারীপ্রধান যদি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় কর্মরত থাকেন কিংবা এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারী (MPO teachers) হন।
- ৩. সরকারি পেনশনভোগী: পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি পেনশন বা অবসর সুবিধা গ্রহণ করলে (প্রতিবন্ধী সন্তানের বিশেষ পেনশন ব্যতীত)।
- ৪. ৫ লাখ টাকার সঞ্চয় বা বিনিয়োগ: জাতীয় সঞ্চয়পত্রে (Savings certificates) পরিবারের কারও ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে অথবা ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি ডিপিএস, এফডিআর বা সঞ্চয় থাকলে।
- ৫. তিন বা চার চাকার মোটরযান: পরিবারের সদস্যের নামে বিআরটিএ (BRTA) নিবন্ধিত থ্রি-হুইলার, সিএনজি, কার, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক বা মাইক্রোবাস থাকলে।
- ৬. বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান: পরিবারের কারও নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্সপ্রাপ্ত বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকলে।
- ৭. করযোগ্য আয় ও নিয়মিত করদাতা: পরিবারের কোন সদস্য নিয়মিত করদাতা (Taxpayer) হলে এবং করযোগ্য আয় থাকলে।
- ৮. নির্ধারিত সীমার বেশি জমি বা সম্পদ: বসতভিটাসহ পরিবারের আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর (৫০ শতক) বা তার বেশি হলে এবং অকৃষি/বাণিজ্যিক স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলে।
আরও পড়ুন:
একই পরিবারে একাধিক কার্ড নয় ও সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি চেক (Single Registry System)
একই পরিবারের একাধিক সদস্য ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। যারা ইতিমধ্যে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির (Social Safety Net) সুবিধা পাচ্ছেন, তারাও নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হবেন না। সরকারি ‘সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম’-এ (Single Registry System) ৪ কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য রয়েছে, যার মাধ্যমে দ্বৈততা (Duplication check) শনাক্ত করে ভুয়া আবেদন বাদ দেওয়া হবে।
ডিজিটাল যাচাই-বাছাই ও মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা (G2P Cash Transfer)
ফ্যামিলি কার্ডের নগদ সহায়তা সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দিতে জিটুপি (Government to Person - G2P) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এনআইডি, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর ও টিআইএন, বিটিআরসি আইএমইআই, জাতীয় সঞ্চয়পত্র এবং পেনশনার ডাটাবেজের তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ ৫টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ছাড়া সরাসরি মোবাইল ওয়ালেটে অর্থ পৌঁছে যাবে।
আরও পড়ুন:
প্রতারণা এড়াতে ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচারণা ও হেল্পলাইন ১০৯৮ (Fraud Awareness Helpline 1098)
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য দিতে বা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে কোনো টাকা লাগে না এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া সরকারি সেবা। তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার কথা বলে কেউ অর্থ দাবি করলে বা প্রতারণার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি হেল্পলাইন ১০৯৮ (Helpline 1098) নম্বরে কল করে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার মাধ্যমে বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:



