আজ (শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলায় ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বিমানবন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি যাত্রী ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের এভিয়েশন খাত যে অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ খাতকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় কাজ করার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে।’
দেশে পর্যটন বিকাশে ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী নয়। এর পেছনে অনেক সমস্যা রয়েছে। নদী, সমুদ্র, জঙ্গলসহ পর্যটনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু বাংলাদেশে থাকলেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা যায়নি। এ কারণে পর্যটন ও এভিয়েশন খাতকে একসঙ্গে এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’
আধুনিক এভিয়েশন হাব গড়ে তুলতে ভালো বিমানবন্দর, কার্গো ও যাত্রীসেবার পর্যাপ্ত সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘৪২ বছর পর সিভিল এভিয়েশনের বিভিন্ন নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্টেকহোল্ডারদের জন্য যেসব নিয়ম বাধা তৈরি করছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজ চলছে।’
সম্প্রতি এশিয়া এয়ারের কার্যক্রম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘সেখানে তিনি এমআরও, উড়োজাহাজ, অপারেশন ও টার্নঅ্যারাউন্ড ব্যবস্থাপনা দেখেছেন। মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে কীভাবে উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড করা হয় এবং কম খরচে কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, তা সরেজমিনে দেখেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের উড়োজাহাজ নষ্ট হলে মেরামতের জন্য ভারত অথবা সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হয়। পরে মেরামত শেষে সেটি দেশে এনে সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। বাংলাদেশেই উড়োজাহাজের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা তৈরি করতে সিভিল এভিয়েশন অ্যাক্ট ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।’
বিধিমালা তৈরির ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কীভাবে নিয়মগুলো সহজ করলে এয়ারলাইন্সগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে, সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে। বিমানের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনেও পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
বর্তমানে দেশের এভিয়েশন খাত ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘যাত্রী হয়রানি কমানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগে যাত্রীদের লাগেজ পেতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগত। এখন সেই সময় অনেক কমেছে। যাত্রী ও কার্গো দ্রুত খালাসের নির্দেশনা দেয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। যাত্রীদের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে কার্গোর দুটি দরজাও একসঙ্গে খোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাঁচ দিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কোনো যাত্রীকে লাগেজের জন্য ৪০ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি।’
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়াতে বডি-ওন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকার প্রকল্পটি বাতিল করেছিল। বর্তমান সরকার তা পুনরায় চালু করেছে। প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্প বাতিল হওয়ায় যে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা বিবেচনায় নিয়ে জাপানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জাপানের সঙ্গে মোট পাঁচবার বৈঠক করা হয়েছে। জাপানের মন্ত্রিপর্যায়ের প্রতিনিধি, এভিয়েশন অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে এসব আলোচনা হয়েছে। দেশের স্বার্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্যই এসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
রাজনীতিবিদদের দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমি মন্ত্রী হয়েছি, আমার আর কী পাওয়ার আছে? আমার সর্বোচ্চ রাজনৈতিক লক্ষ্য যদি প্রধানমন্ত্রী হওয়াও হয়, তারপরও দেশের কথা আগে চিন্তা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এভিয়েশন সেক্টরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের মতো আধুনিক করতে হবে। বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দর বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেয়ার সক্ষমতা রাখে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এ সক্ষমতা ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি যাত্রীর হবে।’
সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। এতে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এবং টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান কেএম মুজিবুল হক।
সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন।
এ আয়োজনে এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনে গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।





