‘মক্কা চুক্তিতে’ বাংলাদেশের যোগদানের ইঙ্গিত: তৈরি হতে পারে নতুন ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ

মক্কায় ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর নেতাদের সঙ্গে কর্মকর্তারা
মক্কায় ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর নেতাদের সঙ্গে কর্মকর্তারা | ছবি: আল জাজিরা
0

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ নামের একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। ন্যাটোর ধাঁচে গঠিত এই যৌথ সামরিক নিরাপত্তা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপে ঢাকার দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়বে এবং প্রতিবেশী ভারতসহ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে যদি কোনো নিরাপত্তা জোট গড়ে ওঠে, তবে সেখানে আমাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সরকার বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখছে।’

তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের তথ্যমতে, সম্প্রতি সৌদি আরব বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

চলতি মাসে পবিত্র মক্কা নগরীতে চুক্তিটি স্বাক্ষর করে সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তিন দেশ—সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। ন্যাটোর ‘যৌথ প্রতিরক্ষা’ নীতি অনুসরণ করে এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, জোটের কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ সামনে এলো।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত কোনো সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে নয়াদিল্লি ভালোভাবে নেবে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শাহান জানান, ভারত ছাড়াও তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার (ইউরোপ-আমেরিকা) এবং অন্যান্য অংশীদার দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক ব্লকে যুক্ত হলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

ইএ