নতুন এই নীতিতে ব্যাংকিং জটিলতা কমানো, এলসি খোলার বাধ্যবাধকতা শিথিল করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্বল্পোন্নত দেশ (LDC Graduation) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাধিক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
নতুন আমদানি নীতির মূল আকর্ষণ ও সুবিধাসমূহ
এলসি (LC) ছাড়া সেলস কন্ট্রাক্টে আনলিমিটেড আমদানির সুযোগ:
আগের নীতিতে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে ঋণপত্র (Letter of Credit) ছাড়া ‘পারচেজ বা সেলস কন্ট্রাক্ট’ (Sales/Purchase Contract)-এর মাধ্যমে এলসি ব্যতিরেকে আমদানির ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলারের বাধ্যবাধকতা ছিল। নতুন আদেশে এই বার্ষিক ৫ লাখ ডলারের নির্দিষ্ট মূল্যসীমা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে নির্দিষ্ট সীমারেখা ছাড়াই সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি করা সম্ভব হবে।
৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির অনুমতি:
নতুন নীতিমালার অন্যতম বড় আকর্ষন হলো বাইকপ্রেমীদের জন্য সিসি সীমা বৃদ্ধি। সরকার এখন থেকে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় (CBU Model) সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি (375cc Engine Capacity) পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ দিয়েছে। উল্লেখ্য, আগের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২০২৪ অনুযায়ী সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ১৬৫ সিসির (165cc Limit) বেশি মোটরসাইকেল আমদানিতে বিধিনিষেধ ছিল। এই পরিবর্তনের ফলে দেশের অটোমোবাইল বাজারে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের শক্তিশালী ও উচ্চক্ষমতার বাইক প্রবেশের পথ উন্মুক্ত হলো।
ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস:
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লজিস্টিকস সুবিধা জোরদার করতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ (Free Trade Zone - FTZ) এবং ‘সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস’ (Central Bonded Warehouse) প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত বিধিমালা যুক্ত করা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ সুবিধা:
নীতিমালায় প্রথমবারের মতো 'প্রবাসী বাংলাদেশি' (Non-Resident Bangladeshi - NRB)-দের স্পষ্ট সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে। প্রবাসীদের দেশে শিল্প প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করতে অনুমোদিত শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি (Capital Machinery) ও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ করা হয়েছে।
রপ্তানিমুখী শিল্পে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল:
রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ (Export Diversification) এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন বাড়াতে রপ্তানিমুখী বিভিন্ন শিল্পে বিনা মূল্যে অর্থাৎ 'ফ্রি অফ কস্ট' (Free of Cost - FOC) ভিত্তিতে উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানির ক্ষেত্র প্রসারিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন ও বৈশ্বিক মান:
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-র বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি প্রস্তুত করায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) সহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী দেশের সঙ্গে ‘দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ (Free Trade Agreement - FTA) বা ‘পছন্দমূলক বাণিজ্য চুক্তি’ (Preferential Trade Agreement - PTA) আলোচনায় বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে।
আরও পড়ুন:
নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯: মূল সুবিধা ও পরিবর্তনসমূহ
একনজরে এলসি শিথিলকরণ, সেলস কন্ট্রাক্ট, ফ্রি ট্রেড জোন ও প্রবাসীদের বিনিয়োগ সুবিধা
এলসি ছাড়া পণ্য আমদানি
আগের বার্ষিক ৫ লাখ ডলারের সীমা বাতিল করে ‘সেলস বা পারচেজ কন্ট্রাক্ট’-এর মাধ্যমে সরাসরি আমদানির সুবিধা প্রসারিত
ফ্রি ট্রেড ও ওয়্যারহাউস
প্রথমবারের মতো ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ (Free Trade Zone) ও ‘সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস’ প্রতিষ্ঠার বিধিমালা যুক্ত
প্রবাসী সুবিধা (NRB Benefits)
প্রবাসীদের স্পষ্ট সংজ্ঞায়ন এবং দেশীয় শিল্পে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ
রপ্তানিমুখী শিল্পের সুবিধা
বিনা মূল্যে বা ‘ফ্রি অফ কস্ট’ (FOC) ভিত্তিতে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির ক্ষেত্র সম্প্রসারণ
মোটরসাইকেল আমদানি সীমা
১৬৫ সিসির থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত (CBU) বাইক আমদানির অনুমতি
আন্তর্জাতিক চুক্তি (FTA/PTA)
ডব্লিউটিও (WTO) বাণিজ্য সহজীকরণ মান অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তিতে এগিয়ে থাকার সুযোগ
কার্যকরী মেয়াদ ও বাতিলের আদেশ
২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত কার্যকর (আগের ২০২১-২৪ নীতি বাতিল)
নীতিগত বিষয় (Category)
নতুন আদেশের সুবিধা ও পরিবর্তনের বিবরণ (Details)
আরও পড়ুন:




