শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ঝাড়খণ্ডে বিজেপির ‘বনধ’

ঝাড়খণ্ডে বিজেপির ‘বনধ’
ঝাড়খণ্ডে বিজেপির ‘বনধ’ | ছবি: দ্যা হিন্দু
0

শিক্ষার্থীদের পদযাত্রায় পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ (মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট) রাড়খণ্ডে ‘বনধ’ পালন করছে বিজেপি। বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। এছাড়া একই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে দিল্লিতেও। পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে পুঁজি করে বিরোধীদলগুলো ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর। অন্যদিকে গতকালের (সোমবার, ১০ আগস্ট) বিশৃঙ্খলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

দিল্লির যন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের রেষ কাটতে না কাটতেই; ফের শিক্ষার্থী আন্দোলনে উত্তপ্ত ঝাড়খণ্ড। সোমবার চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে রাঁচির বিধানসভা অভিমুখী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও জলকামান ছোঁড়ে পুলিশ। আহত হয় বেশ কয়েকজন।

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিজেপির ডাকে ঝাড়খণ্ডে পালিত হচ্ছে বনধ । এতে বন্ধ রাঁচিসহ রাজ্যটির বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট। অনেক স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন বিজেপির নেতাকর্মীরা।

শুধু ঝাড়খণ্ড নয়, চলমান আন্দোলনের ছাপ দিল্লিতেও। পার্লামেন্ট ভবনের সামনে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভে নামে শাসকদল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের এমপিরা। তাদের অভিযোগ, ঝাড়খণ্ড শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ইচ্ছাকৃত হামলা চালিয়েছে রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। শাসকদলটি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হওয়ায় সোমবারের হামলার জন্য রাহুল গান্ধীকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান সংসদ সদস্যরা।

আরও পড়ুন:

তবে ঝাড়খণ্ড ইস্যুতে জোটসঙ্গীদের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়েছেন রাহুল গান্ধী। জানান, শিক্ষার্থীদের যেকোনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নিপীড়ন- নির্যাতনের সমর্থন করে না কংগ্রেস।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যেকোনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা নিন্দা জানায় কংগ্রেস। আমরা এসব সহিংসতাকে অনুমোদন কিংবা সমর্থন করতে পারি না।’

এদিকে টানা ৯ দিন ধরে অনশনরত ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের প্রধান মুখে দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে পিছু হটতে চায় না আন্দোলকারীরা।

আরও পড়ুন:

আর ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফায়দা লুটছে বিরোধী শিবির। আন্দোলন প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের ফের সংলাপের আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে সোমবারের বিশৃঙ্খলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ শনাক্ত করছে পুলিশ। পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যানকে।

যন্তর-মন্তরের সফল আন্দোলনের পর আগামী ১৫ আগস্ট থেকে ভারতের গ্রামাঞ্চলে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়নে ক্যাম্পেইন শুরু করবে ককরোচ জনতা পার্টি।

এসএস