ইউক্রেনের আইনপ্রণেতা দাভিদ আরাখামিয়া জানান, উদ্ধারকৃত নাগরিকদের বহনকারী চারটি বিমান বেলারুশের গোমেলে অবতরণ করার পর তাদের বাসে করে ইউক্রেন সীমান্তে নিয়ে আসা হচ্ছে। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক অম্বুডসম্যান দিমিত্রো লুবিনেটস নিজে রাশিয়ার দখলকৃত খেরসন অঞ্চলে যান। যুদ্ধ শুরুর পর তিনিই প্রথম কোনো শীর্ষ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা যিনি সরাসরি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় গিয়ে নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার কাজ তদারক করলেন। তাকে সহায়তা করেন রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা।
২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহরটি রাশিয়ার দখলে রয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চরম ক্ষতিগ্রস্ত এই শহরে প্রায় ৫০টি শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আটকা পড়েছিলেন। ল্যান্ডমাইন এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে সবকটি সড়ক বন্ধ থাকায় এতদিন সেখান থেকে বের হওয়া অসম্ভব ছিল। গত মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর মাইন অপসারণ কাজ শেষ করে গত শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
দীর্ঘদিনের অবরোধে ওলেশকির মানবিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছিল। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানীয় জল ও ওষুধের অভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাস ও আগাছা খেয়ে বেঁচে ছিলেন বলে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান। অসুস্থ, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত উদ্ধারকৃত নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য সীমান্তে হাসপাতাল ও চিকিৎসক দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সীমান্ত থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কিয়েভে পাঠানো হবে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা লুবিনেটস জানান, গত সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সক্রিয় মধ্যস্থতায় এই মানবিক উদ্ধার অভিযান বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শান্ত পরিবেশ বজায় থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে এই স্থানীয় যুদ্ধবিরতি সার্বিক কোনো শান্তি চুক্তির রূপ নেবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করলেও ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে রাশিয়ার কঠোর অবস্থানের কারণে বড় ধরনের শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা এখনও ক্ষীণ।





