আজ (শুক্রবার, ৯ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে এবছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এবারের পুরস্কারর দৌড়ে আছে ২০৮ ব্যক্তি ও ৭৯ সংস্থাসহ ২৮৭ প্রার্থীর নাম।
তবে অত্যন্ত গোপনীয় বাছাই প্রক্রিয়ায় জানার উপায় নেই ঠিক কারা আছেন মনোনয়নের তালিকায়। যদিও সম্ভাব্য বিজয়ীদের দৌড়ে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে পোপ লিও, জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও সেভ দ্যা চিলড্রেনের নাম।
গেলবারের মতো এবারও নিজেকে বিশ্ব শান্তির দূত হিসেবে উল্লেখ করা ট্রাম্প পিছিয়ে পুরস্কারের দৌড়ে। বিশ্লেষকদের শঙ্কা, নিজে নোবেল না পেলেও, কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর এক ধরনের প্রভাব বলয় তৈরি করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কিন্তু সত্যিই কী এমন সুযোগ আছে ট্রাম্পের, কীভাবে বেছে নেয়া হয় বিজয়ীর নাম কিংবা কারাই বা থাকেন জুরি বোর্ডে তা নিয়ে জল্পনা সবার।
আরও পড়ুন:
মূলত নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির পাঁচ সদস্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচন করেন। নরওয়ের পার্লামেন্ট সদস্যদের নিয়োগ দেয়। বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে আছেন নরওয়ের পেন ইন্টারন্যাশনালের শাখার প্রধান।
প্রতিবছর জানুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশিষ্টজনরা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির নাম কমিটির কাছে পাঠান। কমিটির সদস্যরা কয়েক হাজার প্রার্থীর মধ্য থেকে শান্তি পুরস্কার পাওয়ার মানদণ্ডে যোগ্যদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে। ছয় মাসের যাচাই শেষে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিজয়ীর নাম বেছে নেয় কমিটি। এক্ষেত্রে বিজয়ী নির্বাচনে কমিটি প্রথমে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। তবে ঐকমত্য না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বেছে নেয়া হয় বিজয়ীকে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সচিব ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন বলেন, ‘আমরা প্রচুর মনোনয়ন পাই, সেগুলো বাছাই করে একটি তালিকা নোবেল কমিটির কাছে পেশ করি। তারা সেই তালিকার প্রতিটি মনোনয়ন খুঁটিয়ে পড়েন এবং সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন, যেখানে হাতেগোনা কয়েকজন থেকে শুরু করে কয়েক ডজন প্রার্থীও থাকতে পারেন। কমিটির সচিব হিসেবে আমার দায়িত্ব হলো, সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত সংগ্রহ করা।’
কীসের ভিত্তিতে বাছাই করা হয় একজন বিজয়ীকে তা নিয়ে রয়েছে কৌতুহলের পাহাড়। নোবেলের প্রতিষ্ঠাতা আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইল অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি বা সংস্থা বিশ্বে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও শান্তি প্রচারে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন , তিনি বা সেই সংস্থা নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য উপযুক্ত।
আরও পড়ুন:
এর সঙ্গে যুক্ত হয় বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির হালচাল। বিশ্বে কী ঘটছে, সামনের দিনের উদ্বেগগুলো কী, সেসব বিবেচনা করে বাছাই করা হয় বিজয়ীকে। নির্দিষ্ট শান্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো বিষয়ও বিজয়ী বাছাইয়ে প্রাধান্য পায়।
ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন বলেন, ‘কমিটির সদস্যরা বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রবণতাগুলো কী তা মূল্যায়ন করে। এছাড়া নির্দিষ্ট শান্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সমসাময়িক সময়ে স্বাক্ষর হওয়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিও মূল্যায়ন করে কমিটি।’
কিন্তু এত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীকে বেছে নেয়া হলেও, বিশ্ব শান্তিতে কতটুকু ভূমিকা রাখেন বিজয়ীরা। উদাহরণস্বরূপ- গেল বছর শান্তি পুরস্কার পাওয়া ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো প্রকাশ্যে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের সমর্থক। এছাড়া বছরের শুরুতে নিকোলাস মাদুরোকে জোরপূর্বক ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে নিয়ে গেলা হলেও সম্পূর্ণ নিশ্চুপ ছিলেন মাদুরো।