আইফেল টাওয়ারে নারীকর্মীদের সরিয়ে দেয়ার বিতর্ক; প্রধান নির্বাহীর পদত্যাগের ঘোষণা

প্যারিসের আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে বিএপিএসের হিন্দু সন্ন্যাসীদের একটি দল
প্যারিসের আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে বিএপিএসের হিন্দু সন্ন্যাসীদের একটি দল | ছবি: বিবিসি
0

প্যারিসের ঐতিহাসিক আইফেল টাওয়ারে একটি হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীর পরিদর্শনের সময় নারীকর্মীদের সরিয়ে দেয়ার ঘটনায় তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক ব্রাঙ্কো রুইভো। আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্যাট্রিক ব্রাঙ্কো রুইভো চলতি বছরের শেষ নাগাদ তার পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা (বিএপিএস) নামের একটি হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়। অষ্টাদশ শতকের বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই গোষ্ঠীর অনুসারীরা নারী ও পুরুষের মধ্যে কঠোর সামাজিক বিভাজন মেনে চলেন। তাদের পরিদর্শনের সুবিধার্থে টাওয়ারের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দায়িত্বরত নারীকর্মীদের সরিয়ে সেখানে পুরুষ সহকর্মীদের দায়িত্ব দেয়া হয়।

এসইটিইর এক অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে, ওই পরিদর্শনের আয়োজনে পরিচালনগত গুরুতর ত্রুটি ও ঘাটতি ছিল, যার কারণে নারীকর্মীদের সরিয়ে নেয়ার মতো অগ্রহণযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, হিন্দু প্রতিনিধিদলটির পক্ষ থেকে নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছিল, যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া উচিত হয়নি।

আইফেল টাওয়ারের কর্মচারী ইউনিয়নের একজন প্রতিনিধি জানান, পরিদর্শনের সময় নারীকর্মীদের তাদের নিয়মিত কর্মস্থল ছেড়ে চলে যেতে বলা হয় এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যাতায়াত না করার নির্দেশ দেয়া হয়। এতে তারা অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেছেন। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টাওয়ারের কর্মীরা ধর্মঘট ডাকেন, যার ফলে সাময়িকভাবে পর্যটকদের জন্য স্থাপনাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

এই ঘটনা ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিদেশি দর্শনার্থীদের দাবি মেটাতে এ দেশের নারীদের এভাবে পিছিয়ে যেতে বাধ্য করা আমি কোনোভাবেই মেনে নেব না।’

প্যারিসের সোশ্যালিস্ট মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার একে একটি ‘অযৌক্তিক, অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন।

এসইটিইর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অ্যারিয়েল ওয়েল গত মঙ্গলবার জানান, আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের জন্য লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর বিএপিএস দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সেবার বৈশ্বিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী।

—বিবিসির প্রতিবেদনে অবলম্বনে

এএম