স্বাধীনতার দাবিতে তিন অঞ্চলের চুক্তি সই, ভাঙনের মুখে ব্রিটেন?

স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের চুক্তি সই
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের চুক্তি সই | ছবি: সংগৃহীত
0

তাহলে কী ভেঙে যাবে যুক্তরাজ্য? স্বাধীনতার দাবিতে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক প্রধানদের চুক্তি সই হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নামের সামনে যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতা রক্ষার চ্যালেঞ্জ। ডাবলিনের মাটিতে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের এক উস্কানিতেই সীমান্ত গণভোটের খুব কাছাকাছি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড; প্রশ্নের মুখে ওয়েস্টমিনস্টারের কেন্দ্রীয় শাসন কাঠামো। শেষ পর্যন্ত কী অপেক্ষা করছে নর্দান আয়ারল্যান্ডবাসীর ভাগ্যে? একই পথেই কী হাঁটবে স্কটল্যান্ড বা ওয়েলসও?

যেখানেই যাচ্ছেন, নিয়ে যাচ্ছেন প্রতিশোধ, জবর-দখল আর ভাঙনের বার্তা। নিজের খেয়াল খুশিতে নাড়াচাড়া করছেন বিশ্বের শাসন কাঠামো নিয়েও। এবার আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্ট দেখতে গিয়ে ভাঙনের মুখে ফেলে এলেন যুক্তরাজ্যকে, জুড়তে চাইলেন রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড আর নর্দান আয়ারল্যান্ডকে। ট্রাম্পের ভাষায় ফ্যান্টাস্টিক এই পরিকল্পনায় চূড়ান্ত বিব্রতকর অবস্থায় যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম। সম্প্রতি জোর গলায় বলেছিলেন, নর্দান আয়ারল্যান্ডে এই মুহূর্তে কোনো গণভোট হওয়ার সম্ভাবনা 'অফ দ্য টেবিল'।

ট্রাম্পের সফরের সময় থেকেই যুক্তরাজ্য অধিভুক্ত নর্দান আয়ারল্যান্ডবাসীর বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য স্বাধীন ও সার্বভৌম রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে মেলার ইচ্ছা আছে বহু নর্দান আইরিশের। আবার এদেরই একটা অংশের দাবি, আয়ারল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ট্রাম্প অবাঞ্ছিত।

তবে ওয়েস্টমিনস্টারকে চূড়ান্ত অপ্রীতিকর অবস্থায় ফেলেছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ন্যাশনালিস্ট নেতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশ। ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে সোমবার এই তিন অঞ্চলের ৩ ফার্স্ট মিনিস্টার এক সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। যার ভিত্তিই হচ্ছে, এই ৩ অঞ্চলের মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতা দিতে হবে। এর অর্থ একটাই, সীমান্ত গণভোট বা বর্ডার পোল। যেখানে, অবিভক্ত আয়ারল্যান্ড গঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বর্তমান ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও'নিল।

ট্রাম্পের ঐ মন্তব্যে ওয়েস্টমিনিস্টারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল, তীব্র অসন্তোষ। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে বিপরীত মুখে উস্কে দিয়ে ব্রিটিশ নীতিমালার অবমাননা, কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন এবং ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক গুড ফ্রাইডে চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিভেদ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি- মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগের লিস্ট এতটাই লম্বা।

আয়ারল্যান্ড একীভূত হওয়া নিয়ে এই আলোচনার একটি অংশ জুড়ে আছে ব্রেক্সিট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার বিরোধিতাকারীদের বেশিরভাগ স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের। পক্ষে থাকা ৫১.৮৯ শতাংশ ভোটার ইংল্যান্ড-ওয়েলসের হলেও, ওয়েলস এখন ব্রেক্সিট ইস্যুতে বিভাজিত। কাজেই ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা দাবি করা ৩ অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতারা ব্রেক্সিটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন- এটি প্রায় স্বাভাবিক।

আল জাজিরার বিশ্লেষণ, গণভোট হলেই যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতা ভেঙে যাবে এমনটা ধরে নেয়ার কারণ নেই। দুই আয়ারল্যান্ডকে এক করতে হলে শুধু নর্দান অঞ্চলে ভোট হলে চলবে না, গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, ভোট হতে হবে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডেও। বর্ডার পোলের রায় আসবে দুই প্রান্ত থেকেই। থাকবে রাজনৈতিক আর সামাজিক বিভক্তির চ্যালেঞ্জ।

এছাড়া, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলসের ন্যাশনালিস্টরা আপাতত এক মঞ্চ থেকে এক দাবি উত্থাপনের চেষ্টা করলেও, যুক্তরাজ্য থেকে বের হতে চাইলে তাদের আলাদা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। গণভোটের জন্য ওয়েস্টমিনিস্টারের বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন হবে স্কটল্যান্ডের। স্বাধীনতার পক্ষে জনমত ও রাজনৈতিক ইন্ধন থাকলেও নির্দিষ্ট গণভোটের সাংবিধানিক পথ খোলা নেই ওয়েলসের সামনে। তবুও আয়ারল্যান্ড একীভূত হওয়া কিংবা স্কটল্যান্ড-ওয়েলসের স্বাধীনতার গুঞ্জনে প্যালেস অব ওয়েস্টমিনস্টার থেকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট পর্যন্ত আছড়ে পড়ছে থেমস নদীর ঢেউ।

ইএ