কারিগরি জটিলতায় যুক্তরাজ্যে ১৮০০ ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত কয়েকশো

যুক্তরাজ্যের একটি বিমানবন্দর
যুক্তরাজ্যের একটি বিমানবন্দর | ছবি: সংগৃহীত
0

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে প্রযুক্তিগত জটিলতায় যুক্তরাজ্যের আকাশপথে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিপর্যয়। লন্ডনের হিথ্রোসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে প্রায় ১৮০০ ফ্লাইট, বিলম্বিত কয়েকশো। এতে, বিপাকে পড়েছে বিমান সংস্থাগুলো। চরম ভোগান্তিতে বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা। তবে ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। খোলা রয়েছে যুক্তরাজ্যের আকাশসীমাও। ব্রিটিশ এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ন্যাটস জানিয়েছে, তাদের সিস্টেম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

যুক্তরাজ্যের আকাশসীমায় চলাচলকারী বছরে প্রায় ২৫ লাখ ফ্লাইট এবং ৩০ কোটির বেশি যাত্রী পরিষেবা দিয়ে আসছে ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস ন্যাটস। ইউরোপের ব্যস্ততম আকাশপথকে বিমান চলাচল নিরাপদ রাখার দায়িত্ব যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক সিস্টেমের প্রধান সংস্থা ন্যাটসের।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হুট করেই সংস্থাটি বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটির কথা জানায়। এতে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ইউরোপের ব্যস্ততম হিথ্রোসহ বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে। দ্রুত সমস্যা সমাধান করা হলেও, কিছু জটিলতা রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও সময় লাগবে বলে জানায় সংস্থাটি।

ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে বিভ্রাটে বিমান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। খোলা রয়েছে যুক্তরাজ্যের আকাশসীমাও। তবে অল্প সময়েই যুক্তরাজ্যের আকাশপথে নেমে আসে বিপর্যয়। বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী সংস্থা সিরিয়ামের তথ্যমতে, এরইমধ্যে বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে প্রায় ২ হাজার ফ্লাইট। কেবল হিথ্রোতেই বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে ৪শ'র বেশি ফ্লাইট। গ্যাটউইক বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল কমে গেছে প্রায় ৩১ শতাংশ।

বিমান পরিচালনা নিয়ে সমস্যায় পড়েছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইজিজেট, লুফথানসাসহ বেশ কয়েকটি বড় বিমান সংস্থা। এসব প্রতিষ্ঠানকে গুণতে হচ্ছে লোকসান। লন্ডনের বাইরের বিমানবন্দরগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এসব বিমানবন্দরে অলস পড়ে আছে শত শত বিমান।

এই সমস্যায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে যুক্তরাজ্যগামী ও যুক্তরাজ্য ছেড়ে আসা ফ্লাইটগুলোতে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা নিয়ে তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে বিমানবন্দরে। এমনকি অন্যান্য দেশের বিমানবন্দরেও আটকা পড়েছেন যাত্রীরা।

২০২৩ সালের পর থেকেই যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলো প্রায় প্রতি বছরই কারিগরি ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি শিকার হচ্ছে। গেল বছর রাডার-সংক্রান্ত একটি প্রযুক্তিগত সমস্যায় হিথ্রোসহ লন্ডনের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে চার ঘণ্টার বেশি সময় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। এছাড়া, ২০২৪ সালে ফ্লাইট পরিকল্পনা প্রক্রিয়াকরণে ত্রুটির মুখে ১০ কোটি পাউন্ড লোকসান গুণতে হয়েছে ন্যাটসকে।

ইএ