ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ ইরানকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। মার্কিন নৌঅবরোধ, অর্থনৈতিক সংকট এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির মুখে মধ্যপন্থি শিবির মনে করছে, শক্ত অবস্থানে থেকেই সমঝোতা করার এখনই শেষ সুযোগ।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন অংশটি সংঘাত দ্রুত অবসানের পক্ষপাতী। চলতি মাসেই এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যুদ্ধ কোনো না কোনো সময়ে থামতেই হবে। নিজেদের সম্মান ও শক্তির অবস্থান বজায় থাকা অবস্থায় এবং বিশ্ব যখন আমাদের জয় স্বীকার করে নিচ্ছে, তখনই এটি শেষ করা সবচেয়ে ভালো।’
বিপরীতে কট্টরপন্থি রক্ষণশীলদের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা ওয়াশিংটনের কোনো প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস রাখতে নারাজ। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা বেরিয়ে যাওয়া এবং সমঝোতা চলার মধ্যেই অতীতে চালানো মার্কিন হামলার উদাহরণ টানছেন তারা। কট্টরপন্থিদের মতে, নতিস্বীকার না করে সশস্ত্র প্রতিরোধ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার মাধ্যমেই দেশকে রক্ষা করা সম্ভব।
ইরানি পার্লামেন্টের কট্টরপন্থি সদস্য কামরান গাজানফারি সমঝোতার বিরোধীদের সমালোচনা করে আইনসভায় বলেন, ‘শত্রু বারবার প্রমাণ করেছে আমরা যতই ছাড় দিই না কেন, তারা কখনোই সন্তুষ্ট হবে না এবং আমাদের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো কিছুতেই থামবে না।’
লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল জানান, কট্টরপন্থিরা মনে করছে কেবল যুদ্ধে না হেরেই তারা বিজয়ী হয়েছে। তারা বিশ্বাস করে ট্রাম্পকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপে রেখে কাবু করা সম্ভব। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রবণতা ইরানের মধ্যপন্থিদের অবস্থানকে দুর্বল ও কট্টরপন্থিদের বক্তব্যকে জোরালো করছে।
ক্ষমতাকেন্দ্রের এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের মাঝে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি অনেকটাই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের প্রতি সরাসরি সমর্থন না জানিয়ে তিনি চাপের মুখে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে বাড়াবাড়ি না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, যাতে শত্রুপক্ষ সুযোগ নিতে না পারে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তেহরানের এই অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপিয়ে দেয়া এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ।





