ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ২৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে পারস্য উপসাগর ও এর আশেপাশে জলসীমায় অবস্থান করছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। দীর্ঘদিনের এই অভিযানে খাদ্য সংকট, মানসিক অবসাদসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন হাজার হাজার মার্কিন সেনা। এ নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করে আসছে বিবিসি-সিএনএনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম।
সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন সমুদ্রে মোতায়েন থাকার কারণে জাহাজটির নাবিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সংঘর্ষে প্রাণ গেছে ৭ জনের। এই দাবিকে গুজব উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ১০ হাজার বিমান উড্ডয়ন আর ১৫ লাখ পাউন্ডের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারেও পরেও আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের নাবিক ও মেরিন সেনারা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ও অবিচল আছেন। তাদের চুক্তি নবায়নের হার সর্বোচ্চ ৮৪.৪ শতাংশ।
এরপর মার্কিন প্রতিরক্ষমন্ত্রীপ ইরানের দাবি অস্বীকার করেছেন। নাবিক ও মেরিন সেনাদের স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন পিট হেগসেথ। কিন্তু এড়ানো যাচ্ছে না বিতর্ক। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, সম্প্রতি আব্রাহাম লিঙ্কন জাহাজের কিছু নাবিক সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতে গভীর উদ্বেগে পড়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এমন তথ্য উঠে এসেছে বিবিসির প্রতিবেদনেও। এই অবস্থায় পেন্টাগনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি মার্কিন আইন প্রণেতাদের।
এদিকে, আব্রাহাম লিংকনে নাবিক ও মেরিন সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ও রসদ সংক্রান্ত সংকটের খবর প্রকাশের মধ্যেই নতুন এক তথ্য দিয়েছে এবিসি নিউজ। তাদের দাবি, এরইমধ্যে ভিয়েতনামের দা নাং বন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হয়েছে আরেকটি বিমানবাহী মার্কিন রণতরী, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। একটি ক্রুজার ও ডেস্ট্রয়ার সঙ্গে নিয়ে তরীটি সিঙ্গাপুর প্রণালী অতিক্রম করেছে এমন দাবিও করা হচ্ছে। এর আগে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, লিঙ্কনের জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছে রণতরী জর্জ ওয়াশিংটন।
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার শুরুর আগেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌছায় আব্রাহাম লিংকন। যুদ্ধ শুরুর পর এক পর্যায়ে রণতরীতে রসদের ঘাটতি দেখা যায়, হারিয়ে যায় কিছু নথিপত্রও। তখন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন ফোর্স এই তথ্য স্বীকার করেছিল। তবে সেনাদের স্বাস্থ্য নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলা হলেও তা স্বীকার করেনি সেন্ট্রাল কমান্ড। বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও আশেপাশে অবস্থান করছে লিংকনসহ আরও একটি রণতরী।
