ওমানের উপকূলে রুশ তেলবাহী জাহাজ থেকে তেল ছড়াচ্ছে ৪০০ বর্গকিলোমিটারে

ওমানের উপকূলে ট্যাংকার থেকে ছড়িয়েছে ১৫৪ বর্গমাইলজুড়ে তেল
ওমানের উপকূলে ট্যাংকার থেকে ছড়িয়েছে ১৫৪ বর্গমাইলজুড়ে তেল | ছবি: রয়টার্স
0

ওমানের একটি প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকার কাছে আটকে পড়া তেলবাহী জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া অপরিশোধিত তেলে প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঢেকে গেছে। গতকাল (সোমবার, ১০ আগস্ট) ওমান সরকার প্রথমবারের মতো এই পরিবেশগত বিপর্যয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ক্যারোলাইন বেজেঙ্গি নামের জাহাজটিতে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল বোঝাই ছিল। এশিয়ার উদ্দেশে যাত্রাকালে গত ৮ জুন ইয়েমেনের কাছে জাহাজটি প্রথমে বিপদে পড়ে বলে জানানো হয়। দুটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক মূল্যায়নে জাহাজটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেলের এই স্তর হালানিয়াত দ্বীপের উত্তর-পূর্বে বিস্তৃত হয়ে উপকূল থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটারের মধ্যে এসে পড়েছে। তবে পানি পরিশোধন কেন্দ্র ও পর্যটন স্থাপনাগুলোর কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিবেশ সংগঠন গ্রিনপিস গত সপ্তাহে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে তেলের স্তরটি প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার বলে অনুমান করেছিল।

সুলতান হাইতাম বিন তারিক গত বছর হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের আশপাশের এলাকাকে প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করেছিলেন। এই অঞ্চলে আরব সাগরের কুঁজো তিমি ও সোকোত্রা কর্মোরান্টসহ নানা বিরল প্রজাতির প্রাণী বাস করে।

এডিনবার্গের হেরিওট-ওয়াট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক টনি গুতিয়েরেজ বলেন, তেলের স্তর উপকূল থেকে দূরে রাখা গেলে ক্ষতি অনেক কম হবে। তবে তেল এক বার উপকূলে পৌঁছালে প্রবালপ্রাচীর, পাখি ও মাছের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। তিনি ১৯৮৯ সালে আলাস্কায় এক্সন ভালদেজ দুর্ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেই ঘটনার দশ বছর পরেও ওই এলাকায় তেলের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গিয়েছিল।

স্যাটেলাইট ভিত্তিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা স্কাইট্রুথ-এর প্রধান জন আমোস জানিয়েছেন, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এই ঘটনা চলছে। তবে স্যাটেলাইট চিত্রে এখন পর্যন্ত জাহাজটিকে স্থিতিশীল করতে বা অবশিষ্ট তেল সরাতে কোনো উদ্যোগের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, ক্যারোলাইন বেজেঙ্গি গত এপ্রিলে রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর বন্দর নভোরসিয়স্ক থেকে তেল বোঝাই করে যাত্রা শুরু করে। মে মাসের শেষে এটি সুয়েজ খাল পার হয়। ২০০১ সালে নির্মিত এই জাহাজটি পশ্চিমা বিমার আওতামুক্ত ‘শ্যাডো ফ্লিট’এর একটি পুরনো তেলবাহী জাহাজ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও সুইজারল্যান্ড এই জাহাজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এএম