বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের প্রায় সব বিধ্বংসী ‘অ্যাটাকমস’ এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ ব্যবহার করে ফেলেছে। এর ফলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়লে আকাশপথে বা খুব কাছ থেকে বিপজ্জনক হামলার ওপর নির্ভর করতে হবে। অন্যদিকে সিএনএন জানিয়েছে, প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুতও ‘বিপজ্জনক মাত্রায়’ কমে গেছে। সিএনএনের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের তুলনায় থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেকই ফুরিয়ে গেছে।
তবে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে এসব খবর অস্বীকার করে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশাল পরিমাণ সমরাস্ত্র রয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সমরাস্ত্র তৈরি করে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং প্রতিরক্ষা ঠিকাদাররা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি কারখানা তৈরি করছে। তথ্য ফাঁসকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও সমরাস্ত্র সংকটের এই তথ্যকে ‘অসত্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় অংকের অর্থায়ন করা হলেও প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে অন্তত তিন বছর সময় লাগবে। বর্তমানে শুধু জাপান ও জার্মানির কাছে প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স রয়েছে এবং অন্য কোনো দেশ থাড ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করে না।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সিএসআইএস-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সমরাস্ত্রের এই ঘাটতি চীন বা অন্যান্য সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গত ১৭ জুলাই জর্ডানে ইরানি হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ওদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সমরাস্ত্র সংকটের বিষয়ে পিট হেগসেথ তাকে বিভ্রান্ত করেছেন কি না—তা নিয়ে গত সপ্তাহে ক্যাম্প ডেভিডে এক বৈঠকে ট্রাম্প তাকে জেরা করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এই প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন।





