প্যাট্রিয়টের বিকল্প খুঁজছে কিয়েভ, তৈরি হচ্ছে সাশ্রয়ী ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম
যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম | ছবি: সংগ্রহীত
0

রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ফায়ার পয়েন্ট’ এক ডজনেরও বেশি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে। ‘ফ্রেয়া’ নামের এই যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্পে রাডার, গাইডেন্স এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করবে অংশীদার কোম্পানিগুলো। বর্তমানে বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়ের কাজ শুরু হয়েছে। রয়টার্রসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত মাসে প্যারিসে ১০টি দেশের সরকার এবং ইউরোসাম, লিওনার্দো, থালেস ও এসএএবি-সহ ১২টি প্রতিরক্ষা কোম্পানির উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সর্বইউরোপীয় প্রকল্পটি চালু হয়। বর্তমানে কিয়েভ শব্দের চেয়েও বহুগুণ দ্রুতগামী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে এই ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট তীব্র হওয়ায় ইউক্রেন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

ফায়ার পয়েন্টের প্রধান নির্বাহী ইরিনা তেরেখ রয়টার্সকে বলেন, ‘প্রায় সব বিষয়েই সমঝোতা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৩টি শিল্প-প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।’ তিনি জানান, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রথম সফল ইন্টারসেপশন বা প্রতিরোধ চালানোর লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন। এই প্রকল্পে ইউক্রেনীয় কোম্পানিটি ইন্টারসেপ্টর হিসেবে দ্রুতগতির এফপি৭.এক্স (FP7.X) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে। নরওয়ের কংসবার্গ কাজ করছে কমান্ড সেন্টারের সমন্বয় নিয়ে এবং জার্মানির ডিয়েল ডিফেন্স গাইডেন্স সিস্টেম সরবরাহ করবে বলে জানা গেছে।

তেরেখ জানান, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের এক-চতুর্থাংশ বা এক-ষষ্ঠাংশ খরচে অর্থাৎ প্রতিটি ১০ লাখ ইউরোর কম খরচে এই ইন্টারসেপ্টর তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘সাধারণত যে প্রকল্প শেষ করতে ২০ থেকে ৩০ বছর লাগে, আমরা সেটি মাত্র কয়েক বছরে করতে চাইছি।’ ইতিমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রটির অন্তত পাঁচটি পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এই প্রকল্পে ওপেন-সোর্স আর্কিটেকচার ব্যবহার করা হবে, যাতে বিভিন্ন কোম্পানির যন্ত্রাংশ সহজেই বদল করা যায়।

নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজের ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফাবিয়ান হফম্যান বলেন, ‘যদি সত্যিই এটি ১০ লাখ ইউরোর মধ্যে তৈরি করা যায়, তাহলে সেটি হবে অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং সাশ্রয়ী।’ এছাড়া ফায়ার পয়েন্ট তাদের এফপি৭ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি হামলাকারী সংস্করণও তৈরি করছে, যা ভূমিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। আগামী শরতের শুরুতে এটি এবং শরতের শেষে মস্কো পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম এফপি৯ ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

তেরেখ আরও জানান, ফায়ার পয়েন্ট তাদের ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ নামের এফপি৫ ক্রুজ মিসাইলের জন্য নিজস্ব ইঞ্জিন তৈরি করছে। এতদিন তারা পুরোনো জেট ইঞ্জিন সংগ্রহ করে কাজ চালাচ্ছিলেন। কিন্তু সেগুলো এখন দুর্লভ হয়ে ওঠায় তারা প্রথম ১০টি ইঞ্জিনের প্রোটোটাইপ সংযোজন করছেন।

এএম