বিহারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর এএকে-৪৭ দিয়ে গুলি, পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

একে–৪৭ রাইফেল থেকে গুলি ছুড়ছেন এক ভারতীয় পুলিশ সদস্য
একে–৪৭ রাইফেল থেকে গুলি ছুড়ছেন এক ভারতীয় পুলিশ সদস্য | ছবি: সংগৃহীত
0

ভারতের বিহারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে আকাশে গুলি ছোড়ার অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর নতুন করে এই উত্তেজনা দেখা দিলো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ২০ জুলাই রাজধানী নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা করার সময় শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে শনিবার বিহারের সিওয়ান শহরে দাঙ্গা দমনের সরঞ্জাম পরা এক পুলিশ সদস্যকে একদল শিক্ষার্থীর দিকে একে-৪৭ তাক করে অন্তত তিন রাউন্ড গুলি ছুড়তে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

বিহার পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নীলেশ কুমার রয়টার্সকে বলেন, ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি। তিনি জানান, অভিযুক্ত কনস্টেবল একটি গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্য ছিলেন, যারা মূলত দুর্ধর্ষ অপরাধীদের মোকাবিলা করে। নীলেশ কুমার বলেন, ‘ওই কনস্টেবল একে-৪৭ রাইফেলটির ভুল ব্যবহার করেছেন। এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। যেহেতু তারা শিক্ষার্থী ছিল, তাই এমন পদক্ষেপের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এ কারণেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সব ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রশ্ন ফাঁস নয়, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যাক-অফিসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে কর্মসংস্থান হারানোর ভয়ও তরুণদের এই ক্ষোভের পেছনে কাজ করছে। টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র তরুণ সদস্যদের প্রতিবাদের মুখে গত শনিবার পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষামন্ত্রী।

পার্লামেন্টে বিরোধীদের হট্টগোল
শিক্ষার্থীদের ওপর এই পুলিশি অ্যাকশনের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের পার্লামেন্ট। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে পার্লামেন্টে বলেন, ‘এটি আমাদের ইতিহাসের গণতন্ত্রের ওপর অন্যতম ভয়াবহ আঘাত। এর আগে কখনো কণ্ঠ তোলার জন্য শিক্ষার্থীদের এভাবে পেটানো বা অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়নি। বিহারে শিক্ষার্থীদের ওপর একে-৪৭ ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। দায়ীরা কোনোভাবেই পার পাবে না।’

বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে হট্টগোল শুরু হলে অধিবেশন মুলতবি করা হয়। পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন খোদ বিচার বিভাগও। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া শনিবার এক বক্তৃতায় বলেন, ‘ভারতে ভিন্নমত প্রকাশের জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে। নিজের মতামত প্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার।’

এএম