ল্যারি দ্য ক্যাট। যেনতেন কেউ নয়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে বসবাস এই বিড়ালের। ২০০৭ সালে রাস্তায় জন্ম নেয়া ল্যারির ঠাঁই মেলে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে। সেখান থেকে ২০১১ সালে তাকে ডাউনিং স্ট্রিটে নিয়ে আসেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।
তবে পোষা প্রাণী নয় রীতিমতো সরকারি দায়িত্ব পালন করছে এই বিড়াল। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার সময় পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে ক্যামেরন বলেছিলেন, ল্যারি সরকারি চাকরিজীবী। এখানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যিনিই দায়িত্বে আসবেন তার সঙ্গেই কাজ করবে ল্যারি। শুধু তাই নয় তার নামে রয়েছে সামাজিক মাধ্যম এক্স একাউন্টও। যেখান থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে নিয়মিত পোস্টও করা হয়।
ল্যারি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের 'চিফ মাউসার টু দ্য ক্যাবিনেট অফিস' পদে কর্মরত রয়েছে। ল্যারিই প্রথম বিড়াল যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিফ মাউসার উপাধি দেয়া হয়। অর্থাৎ প্রধান ইঁদুরশিকারি। তার মূল কাজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবনকে ইঁদুরমুক্ত রাখা। পুরনো ভবনে ইঁদুরের আনাগোনা কমানোর জন্য ঐতিহ্যগতভাবে ল্যারিকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
গেল দেড় দশকে যুক্তরাজ্যের ৬ জন প্রধানমন্ত্রী বদল হলেও, ডাউনিং স্ট্রিটে বহাল তবিয়েছে রয়েছে ল্যারি। এবার নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম সরকারের অধীনে কাজ করবে সে। তবে কিয়ার স্টারমার ও বার্নাম ছাড়া তার আগের সব বসই ছিলেন কনজারভেটিভ পার্টির।
এরইমধ্যে নজর কেড়েছে বিশ্বে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি সদয় থাকলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ছিল দ্বন্দ্ব। ২০১৯ সালে ট্রাম্প ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে গেলে ক্যামেরার সামনে এসে ছবি নষ্ট করে দেয় ল্যারি। এছাড়া, ট্রাম্পের গাড়ির নিচে ঘুমিয়ে থাকার কারণে বৈঠক শেষে রওনা করতে কিছু সময় দেরি হয় ট্রাম্পের গাড়িবহরের।
সাদা–ধূসর রঙের ল্যারির রাজত্ব পুরো বাসভবনে। বিড়ালের এই উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় নির্বাচনের ফলাফল যা–ই হোক, কিছু প্রতিষ্ঠান অবিচল থাকে।





