আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যা: নুরিস্তানে নিহত ২৩, নিখোঁজ শতাধিক

নুরিস্তানের রাজধানী পারুনে একটি হোটেলের পাশে বন্যার পানি
নুরিস্তানের রাজধানী পারুনে একটি হোটেলের পাশে বন্যার পানি | ছবি: সংগৃহীত
0

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১০০ জন। কাদা ও বড় বড় পাথরের নিচে চাপা পড়া বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছাতে আজ (মঙ্গলবার, ২১ জুলাই) দিনভর হিমশিম খেয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় গতকাল (সোমবার, ২০ জুলাই) এর এই দুর্যোগের হালনাগাদ তথ্য দিয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এএফপির এক প্রতিবেদক দেখেছেন, নুরিস্তানের রাজধানী প্যারুনের প্রত্যন্ত এলাকায় কাঠের লাঠি ও খালি হাতে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন লোকজন। ৩৪ বছর বয়সী ফার্মাসিস্ট ফরিদ গুল জহির বলেন, ‘এত ভয়ংকর বন্যা এর আগে কখনো দেখিনি।’ পাহাড়ে ওঠার সময় আহত হওয়া এই ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন ভূমিকম্প হচ্ছে। শিশু ও অন্যদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম।’

প্যারুন শহরে বন্যায় একাধিক দোকান বালু-কাদায় ঢাকা পড়েছে। বিশাল পাথরের আঘাতে ভবনগুলো ভেঙে পড়েছে। মঙ্গলবার শহরটিতে ধ্বংসস্তূপ সরাতে বুলডোজার ব্যবহার করা হলেও তা যথেষ্ট কার্যকর হয়নি। প্যারুনের মেয়র ও অন্যান্য সরকারি কর্মচারীরাও নিখোঁজ রয়েছেন বলে গভর্নরের কার্যালয় সোমবার জানিয়েছে।

স্পোগমাই হোটেলের ব্যবস্থাপক জাকিরুল্লাহ জাকি এএফপিকে বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন খোদার গজব নাজিল হয়েছে আমাদের ওপর।’ এই ২৯ বছর বয়সী ব্যবস্থাপক জানান, ‘অন্যান্য হোটেল, বাজার ও দোকান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে স্পোগমাই হোটেলটি টিকে আছে এবং জাকির নিখোঁজ ছোট ভাইকেও পাওয়া গেছে।

‘সবাই ট্রমাটাইজড’
আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যোগাযোগ প্রধান জুমা খান নায়েল পরিস্থিতিকে ‘বিধ্বংসী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, পানি নজিরবিহীন উচ্চতায় উঠেছে। সংস্থাটি ডজন ডজন স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করেছে, যারা কোদাল দিয়ে হাত-পায়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে আমরা যাদের ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে, তাদের খাবার, পানি ও তাঁবু সরবরাহ করছি।’

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ত্রাণ কাজে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জাতিসংঘও দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে। ফার্মাসিস্ট ফরিদ গুল জহির বলেন, ‘আমি সব হারিয়েছি। সবাই ট্রমাটাইজড, তারা সারা রাত ঘুমাতে পারেনি।’

দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধানের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আফগানিস্তান বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে বন্যার সংখ্যা বেড়েছে। চলতি মাসেই মাওলবি মতিউল হক খালিস বলেছিলেন, পরিবেশগত সমস্যাগুলো ‘আফগান জনগণকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দেশে মানবিক সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।’

এএম