গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) তথ্য অনুযায়ী, পোশাক শিল্পে প্রায় ৩২ লাখ শ্রমিক কাজ করছে। যাদের প্রায় ৫৮ শতাংশ নারী আর ৪২ শতাংশ পুরুষ। আর পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, ১৬ কোটি ৯৮ লাখ মানুষের দেশে শ্রমিকের সংখ্যা ৭ কোটি ৩০ লাখ। এর মধ্যে শিল্প ও সেবা খাতে ৩ কোটি ৮ লাখ শ্রমিক যুক্ত রয়েছে।
এসব শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সবসময় সোচ্চার তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র। তবে সে অনুযায়ী সুবিধা দিতে বরাবরই পিছিয়ে দেশটি। ১৯৭৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি পাওয়ার কথা থাকলেও সেই হিস্যা মেলেনি। তবে বিশেষ কোটা সুবিধা পেলেও ২০০৫ সালে তা হারাতে হয়। আর ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধস ও শ্রমিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি পোশাক বাদে যে পণ্যগুলোতে জিএসপি ছিল তাও উঠিয়ে নেয়া হয়।
তারপরও পিছিয়ে পড়েনি দেশ, পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি ঊর্দ্ধমুখী ছিল। এমনকি বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয় বাংলাদেশ।
সম্প্রতি শ্রম অধিকার নিয়ে নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় পাঁচটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম বলেন, ‘এটি আসলে শ্রম অধিকার নয়। রাজনৈতিক কারণে এমন নীতি আসছে।’
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তৈরি পোশাকে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু ক্রয়াদেশের ভরা মৌসুম অক্টোবরে ১৩ শতাংশ এবং নভেম্বরে ৭ শতাংশ রপ্তানি কমেছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকলে সার্বিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে শঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
বিজিএমইএ’র পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘গত বছরের এ সময় আমাদের রপ্তানি অস্বাভাবিক বেশি ছিল। কিন্তু এবার কমেছে।’
শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি নীতিমালা বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বড় একটি দেশ যখন এমন সিদ্ধান্ত নেয় তখন অন্য দেশের মধ্যেও এই প্রবণতা তৈরি হয়। এতে করে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা বেড়ে যায়। আর যেকোন পর্যায় থেকে চাপ আসলে রপ্তানির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৮৫১ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ কম।